পহেলা বৈশাখের সাজ

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

জীবনযাপন ডেস্ক

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। বিপুল উৎসাহ ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বাঙালি নতুন বাংলা বছরকে বরণ করে নেয়। দেশজুড়ে থাকে সাজসাজ রব। দিনভর প্রখর রোদ্রতাপেও বিচিত্র বর্ণিল পোশাকে মানুষ বিভিন্ন উৎসবে যোগ দেয়।

একটা সময় ছিল যখন পহেলা বৈশাখের পোশাক মানেই মেয়েদের লাল পেড়ে সাদা গরদের বা সুতি শাড়ি এবং ছেলেদের সাদা পাজামা-পাঞ্জাবিকে মনে করা হতো। কিন্তু এখন সময় বদলে গেছে, এখন নানান রং ও নকশার পোশাক পরছেন মেয়েরা। তেমনি পোশাকের অলংকরণেও এসেছে পরিবর্তন। এখন ব্লকপ্রিন্ত, হ্যান্ডপেইন্ট, অ্যাম্ব্রয়ডারি, পুঁতি-চুমকির সমন্বয়ে অলংকৃত করা হচ্ছে বৈশাখের শাড়ি। বৈশাখ যেহেতু গরমের সময় তাই সুতি পোশাকই বেশি আরামদায়ক। তবে এর সঙ্গে জামদানি, সিল্ক, তশর, অ্যান্ডি ইত্যাদি কাপড়ও এখন বেশ জনপ্রিয়। তবে শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজটির দিকে বিশেষভাবে নজর দিতে হবে। পহেলা বৈশাখের শাড়ির সঙ্গে সাধারণ ব্লাউজ পরলে ভালো লাগবে না। শাড়ি বুঝে ব্লাউজে থাকতে হবে লেইস, পাইপিং, প্লিট অথবা পুঁতি-চুমকির ব্যবহার। এখন ব্লাউজে লেইস বেশ জনপ্রিয় এবং লেইস বাঙালি ঐতিহ্যও বহন করে। এখন মেয়েদের পছন্দে পরিবর্তন এসেছে। শাড়ির পরিবর্তে এখন অনেকেই পরছেন সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, কুরতি-চুড়িদার। তেমনি রঙের ক্ষেত্রেও বৈশাখের চিরায়ত রং লাল-সাদার সঙ্গে কমলা, নিল, শবুজ, ম্যাজেন্টা রংগুলো প্রাধান্য পাচ্ছে।

তবে বৈশাখের সাজ পূর্ণতা পায় মেয়েদের মুখের সাজ ও গয়নার ওপর। যেহেতু গরমকাল এবং ঘোরাঘুরিটা সকালেই হয় বেশি, তাই এ সময় চড়া মেকআপ না করে হাল্কাভাবে সাজতে হবে। ঠোঁটে হালকা লিপস্টিক ও চোখে ঘন করে কাজল পরতে হবে। চুলে খোঁপা অথবা বেণি করে অবশ্যই একগুচ্ছ তাজা ফুল গুঁজে দিতে হবে। খোঁপায় রুপার কাঁটা ও বেণিতে টারসেলও দেওয়া যেতে পারে। গয়না হিসেবে এখন নানা উপাদানের তৈরি গয়না চলছে। যেমনÑমাতি, কাথ, বাঁশ, পুঁতির তৈরি গয়না। তবে গরদ, তসর, জামদানি এসব শাড়ির সঙ্গে সাবেকিয়ানা ধরে রাখতে সোনা ও রুপার তৈরি গয়না বেশ ভালো লাগবে। সেই সঙ্গে পরতে হবে হাতভর্তি কাচের চুরি। মধ্যে ২-১টা সোনার বালাও দেওয়া যেতে পারে। সেই সঙ্গে হাতে ও পায়ে আলতা পরলে বৈশাখের সাজে ভিন্নমাত্রা যোগ হবে। তবে বৈশাখের সাজে পূর্ণতা পেতে অবশ্যই বড় একটি লাল টিপ পরতে হবে।

ছেলেরা এখনো সেই চিরায়ত পাজামা-পাঞ্জাবি পরছে। তবে এর কাটছাঁট ও নকশায় এসেছে পরিবর্তন। এখন পাঞ্জাবির সঙ্গে চুড়িদারটাই বেশি চলছে। পাঞ্জাবির ক্ষেত্রে খাটো পাঞ্জাবি বেশ জনপ্রিয়। রং হিসেবে সাদার সঙ্গে লাল, কালো, নীল, সবুজ রংগুলো প্রাধান্য পাচ্ছে। এ ছাড়া ফতুয়াও ছেলেদের বিশেষ পছন্দের একটি পোশাক। এসব ফতুয়ায় ব্লকপ্রিন্ট, বাটিক, হ্যান্ডপেইন্ট, অ্যাম্ব্রয়ডারি করা হচ্ছে।

 

 

"