যুদ্ধের মেজাজেই কিম

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০১৭, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জাতিসংঘ তো বটেই, পিয়ংইয়ং থেকে কয়লা কেনার ক্ষেত্রে মাস চারেক আগে নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে চীনও। উত্তর কোরিয়ার বন্দর শহর রাসনে গতকাল মঙ্গলবার তাই ‘ডকে উঠেছে’ ব্যবসা। অথচ এখানকারই অন্য একটি ডক থেকে ব্যবসা করে মুনাফা করে চলেছে রাশিয়ার একটি রফতানিকারক সংস্থা। কয়লা ছাড়া যে চলবে না চীনের!

বন্দর শহরের চেহারাটাই বলে দিচ্ছেÑ উত্তর কোরিয়ার রফতানি বাবদ অর্থনীতি ধুঁকছে। অথচ অভিযোগÑশাসক কিম জং উনের এতে বিশেষ হেলদোল নেই। তিনি একাগ্র শুধু পরমাণু পরীক্ষাতেই। আমেরিকাকে চাপে রাখতে এত দিন ধারাবাহিকভাবে যুদ্ধের হুমকিও দিয়ে যাচ্ছিলেন কিম। যার পাল্টা, আবার মঙ্গলবার থেকেই কোরীয় আকাশে যৌথ মহড়া শুরু করে দিয়েছে আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার ২৩০টি যুদ্ধবিমান। যাকে সংবাদমাধ্যমের একাংশ বলছেন ‘ওয়্যার গেম’। এ-ও বলা হচ্ছে যে, এত বড় মহড়া এর আগে কখনো হয়নি। কিমের তাই কপালে ভাঁজ। মুখে বলছেন, ‘যুদ্ধের উসকানি’। একই সঙ্গে পাল্টা জবাবের প্রস্ততিও চালাচ্ছে পিয়ংইয়ং।

তা হলে কি ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ’-ই অবশ্যম্ভাবী? পেন্টাগনের দাবিÑকিম যেভাবে ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে উঠছেন, তাতে এমন মহড়ার দরকার ছিল। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টার তো বলেই দিলেন, ‘এই মুহূর্তে উত্তর কোরিয়াই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় হুমকি।’ তবে কিমকে ঠেকানোর ক্ষেত্রে সামরিক সংঘাতকেই একমাত্র পথ বলে বলে মানতে নারাজ তিনি।

উত্তর কোরিয়া যদিও কোনো রকম আলোচনাতেই যেতে চাচ্ছে না। গত বুধবার কিম আরো একটি পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছেন। আমেরিকার মূল ভূখ- তাদের হাতের নাগালে বলে আবারও হুমকি দিয়েছে পিয়ংইয়ং। কিমের দাবিÑআমেরিকাই যেচে পরমাণু যুদ্ধ বাধাতে চাইছে। কোরীয় উপদ্বীপে ‘পারমাণবিক জুয়া’ খেলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

এই প্রেক্ষিতেই গতকাল থেকে শুরু হওয়া আমেরিকার পাঁচ দিনের যুদ্ধ-মহড়া বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বার্ষিক মহড়া হিসেবে এর নাম দেওয়া হয়েছে ভিজিল্যান্ট এস। পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধের জন্য তৈরি তাদের এফ-২২ যুদ্ধবিমান। মহড়ায় যোগ দিয়েছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও দুদেশের প্রায় ১২ হাজার সেনা।

এদিকে কিমের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় সিঁদুরে মেঘ দেখছে জাপানও। সেখানেও পাল্টা জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। উত্তর কোরিয়া আর যাতে একটিও পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা করতে না পারে, সে জন্য চীনের কাছে সে দেশে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা। উত্তর কোরিয়া থেকে কয়লা নেওয়া বন্ধ করলেও, চীন এটা কতটা মানবেÑতা নিয়ে একটা সন্দেহ থাকছেই। কূটনীতিকদের একাংশও বলছেন, কয়লা রফতানি না হোক, জ্বালানি ছাড়া যে চলবে না উত্তর কোরিয়ার! তাদের কয়লা ব্যবসার ক্ষেত্রে অবশ্য শোনা যাচ্ছে, রাসন বন্দরের দাপুটে ওই রুশ সংস্থার মাধ্যমে কেউ-কেউ বেআইনিভাবে এখনো চীনে কয়লা পাঠাতে চাচ্ছে। নিজের ক্ষতি করে যা করতে নারাজ ওই সংস্থাটি। আর মাথার ওপর নিষেধাজ্ঞার খড়্গ তো আছেই।

"