করোনায় মস্তিষ্কও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, উদ্বিগ্ন বিজ্ঞানীরা

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে এক গবেষণায় আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত কারো কারো মস্তিষ্কে প্রদাহ, মানসিক ব্যাধি ও প্রলাপের মতো মারাত্মক স্নায়বিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে- গবেষণায় এ সংক্রান্ত তথ্যউপাত্ত পাওয়ার পর বুধবার বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাসজনিত মস্তিষ্কে ক্ষয়ক্ষতির ‘সম্ভাব্য ঢেউ’ নিয়ে সতর্ক করেছেন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের (ইউসিএল) ওই গবেষণায় কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত ৪৩ রোগীর মস্তিষ্কের অস্থায়ী কর্মহীনতা, স্ট্রোক, স্নায়ুর ক্ষয়ক্ষতি কিংবা মস্তিষ্কে আরও গুরুতর কোনো সমস্যার উপস্থিতি মিলেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

নতুন করোনাভাইরাস মস্তিষ্কের ক্ষতি করতে পারে- এর আগেও বেশ কয়েকটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছিলেন। হয়ত আমরা মহামারির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্রেইন ড্যামেজের একটি বড় ধরনের সংক্রমণ দেখবো- হতে পারে এটি ১৯১৮-র ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারি পরবর্তী সময়ে ১৯২০ ও ১৯৩০-র দশকে হওয়া এনসেফালিটিস লেথার্জিকের প্রাদুর্ভাবের মতো কিছু একটা, বলেছেন ইউসিএলের গবেষক দলের সদস্য মাইকেল জান্ডি। নতুন করোনাভাইরাসে সৃষ্ট রোগ কোভিড-১৯ মূলত শ্বাসনালি ও ফুসফুসে আক্রমণ করলেও স্নায়ু এবং মস্তিষ্কের চিকিৎসা বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগটির কারণে আক্রান্ত অনেকের মস্তিষ্কে যে ধরনের প্রভাব পড়ার তথ্যউপাত্ত মিলছে তা উদ্বেগজনক। আমার উদ্বেগ হচ্ছে, এখনই কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত মিলিয়ন মিলিয়ন রোগী আছে; এক বছরের মধ্যে কোটিখানেক সুস্থ লোকও পেয়ে যাবো আমরা, তাদের যদি সামান্য পরিমাণও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে তা তাদের কাজ করার সক্ষমতা, দৈনন্দিন জীবনযাপনের সক্ষমতায় প্রভাব ফেলবে, রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন কানাডার ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির স্নায়ু বিশেষজ্ঞ আদ্রিয়ান ওয়েন। জার্নাল ব্রেইনে প্রকাশিত ইউসিএলের গবেষণায় মস্তিষ্কে প্রদাহজনিত উপসর্গ থাকা ৯ রোগীর মধ্যে বিরল অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমেলিটিসের (এডিইএম) উপস্থিতি পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে শিশুদের মধ্যে দেখা যাওয়া এই এডিইএম করোনাভাইরাসজনিত সংক্রমণে আরো মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। ইউসিএলের গবেষকরা বলছেন, সাধারণত তারা তাদের লন্ডন ক্লিনিকে গড়ে প্রতি মাসে একজন করে প্রাপ্তবয়স্ক এডিইএম রোগী পেলেও গবেষণাকালীন এ সংখ্যা প্রতি সপ্তাহে একজনে এসে দাঁড়িয়েছে। আগের তুলনায় এডিইএম রোগীর পরিমাণ চার গুণ বেড়ে যাওয়াকে গবেষকরা ‘খুবই উদ্বেগজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কোভিড-১৯ মাত্র কয়েক মাস ধরে বিচরণ করছে; দীর্ঘমেয়াদে এটি কী ক্ষতি করতে পারে, তা আমরা এখনো জানি না।

 

"