জাপানে ‘চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়তে পারে’, হুশিয়ারি চিকিৎসকদের

প্রকাশ : ২০ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জাপানে চিকিৎসা ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে বলে হুশিয়ার করেছেন দেশটির চিকিৎসকরা। জাপানের দুটি ইমার্জেন্সি মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এক যৌথ বিবৃতি দিয়ে ‘জরুরি চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়তে পারে’ বলে সতর্ক করেছে।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব গুরুতর রোগীসহ অন্যদের চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে জাপানের হাসপাতালগুলোর সামার্থ্য হ্রাস করছে বলে জানিয়েছে তারা। ভাইরাসটির কারণে অতিরিক্ত যে চাপ সৃষ্টি হয় সেই কারণে হাসপাতালের জরুরি বিভাগগুলো গুরুতর অসুস্থ অনেক রোগীরও চিকিৎসা করতে পারছে না বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

করোনাভাইরাসের লক্ষণ আছে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা এমন একজন রোগীকে ৮০টি হাসপাতাল ফিরিয়ে দেওয়ার পর তার চিকিৎসা মিলেছে, এমন ঘটনাও ঘটেছে। জাপান ভাইরাসটিকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, প্রাথমিকভাবে এমন ধারণা পাওয়া গেলেও গত শনিবার দেশটিতে শনাক্ত হওয়া আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

কোভিড-১৯ এ দেশটিতে ইতোমধ্যে ২০০ জনেরও বেশি লোক মারা গেছে এবং আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা রাজধানী টোকিওতেই বেশি বলে জানিয়েছে বিবিসি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টোকিওতে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ কিছুটা কমাতে জেনারেল প্র্যাকটিসে (জিপি) থাকা সার্জনরাও সম্ভাব্য করোনাভাইরাস রোগীদের পরীক্ষায় হাসপাতালগুলোকে সহায়তা দিচ্ছেন।

চিকিৎসা ব্যবস্থাকে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করতেই তারা এটি করছেন বলে জিপি চিকিৎসকদের একটি অ্যাসোসিয়েশনের উপপ্রধান কোনোশিন তামুরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন। প্রত্যেকেরই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হচ্ছে, নাইলে হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সেবা ভেঙে পড়তে পারে, বলেছেন তিনি।

দেশটির সরকারও পরীক্ষার হার বাড়াতে কাজ করে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অন্যান্য দেশের তুলনায় জাপান অনেক কম পরীক্ষা করেছে আর এ কারণেই রোগটি কী পরিমাণ ছড়িয়েছে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, গত মাসে প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়ার তুলনায় জাপান মাত্র ১৬ শতাংশ পিসিআর (পলিমারেজ চেইন রিঅ্যাকশন) পরীক্ষা করেছে।

ব্যাপক পরীক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়া প্রাদুর্ভাব অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলেও জাপান সরকার ব্যাপকভিত্তিক পরীক্ষাকে ‘সম্পদের অপচয়’ বলে অভিহিত করেছিল। সরকারি পর্যায়ে না স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর উদ্যোগেই পরীক্ষাগুলো পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু এসব স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর বড় ধরনের পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার মতো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেই। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে পরীক্ষার বিষয়ে সরকারের আগের অবস্থান থেকে সরে আরো ব্যাপকভিত্তিতে পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

 

"