বদলে দিয়েছে জন্ম মৃত্যু এবং বিয়ে

প্রকাশ : ১৬ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

করোনাভাইরাস আর সবার মতো পাল্টে দিয়েছে কেনিয়ার নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবন। জন্ম থেকে শুরু করে বিয়ে, মৃত্যু সবকিছুতে পরিবর্তন এনেছে এ মহামারি। কেনিয়ার সাংবাদিক জোসেফ ওয়ারুংগু জানিয়েছেন সেই কাহিনি।

কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির এক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সন্তানসম্ভাবা এক নারী। ৩২ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা তিনি। ডা. শীলা আটিয়েনোককে (ছদ্মনাম) সার্বক্ষণিক নজর রাখতে হচ্ছে তার ওপর। এরকম কাজ তিনি এর আগেও বহুবার করেছেন। কিন্তু এবারের ঘটনাটি ঘটছে এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে। সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা গর্ভবতী এই নারীর করোনাভাইরাসের পরীক্ষা করা হয়েছিল। পরীক্ষায় দেখা গেছে তিনি কোভিড-১৯ আক্রান্ত। কাজেই আর দশটি মায়ের স্বাভাবিক সন্তান জন্মদানের মতো ঘটনা এটি নয়।

ডা. আটিয়েনো একজন ধাত্রীবিদ্যা ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ। তার সঙ্গে আছেন আরো কয়েকজন ডাক্তার। যেসব গর্ভবতী নারীর করোনাভাইরাসের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, ওই হাসপাতালে তাদের দেখাশোনার দায়িত্ব এই দলটির ওপর। খুবই নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে ডা. আটিয়েনোর জীবন। তিনি বলেন, ‘আমি এমন সব গর্ভবতী মায়েদের দেখাশোনা করছি যারা এই ভাইরাসে আক্রান্ত, খুবই কঠিন মনে হয় ব্যাপারটা।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাকে এখনই কোনো রোগীর সিজারিয়ান সেকশন করতে হবে। এর মানে হচ্ছে রোগীর দেহের অনেক রক্ত এবং বডি ফ্লুইডের সংস্পর্শে আসতে হবে আমাকে। অপারেশন করার সময় আমার শরীর যদিও ঢাকা থাকবে খুবই সুরক্ষিত স্যুটে বা পিপিইতে। এই পিপিই পরলে বেশ গরম লাগে, আর মোটেও আরামদায়ক নয়।’

‘আর যখন আমি বাড়ি ফিরে যাই, বাচ্চারা দৌড়ে আসবে আমার কোলে উঠার জন্য। কিন্তু কাপড়-চোপড় বদলে, গোসল করে, স্যানিটাইজার মেখে পরিচ্ছন্ন না হওয়া পর্যন্ত আমি ওদের ছুঁতে পারি না। মানসিকভাবে, আবেগের দিক থেকে, এটা বেশ কঠিন। কিন্তু আমার তো কোনো উপায় নেই নতুন শিশুকে এই পৃথিবীতে নিয়ে আসা, সেটাই আমার কাজ। সেটা পৃথিবীতে মহামারি থাকুক আর না থাকুক’ বলছিলেন ডা. আটিয়েনো। তরুণ দম্পতি ফ্রান্সিস এবং ভেরোনিকা গিটোংগা হানিমুনে এসেছেন কেনিয়ার নিয়াহুরুরু এলাকায় তাদের গ্রামের বাড়িতে। যেটা কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে।

তারা তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান করেছেন গত ৫ এপ্রিল। প্রায় ৫০০ জনকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। কিন্তু যখন শেষ পর্যন্ত তাদের বিয়ের অনুষ্ঠানটি হলো। তবে গির্জায় ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল মাত্র ছয়জনকে।

 

"