হাজারো মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রধানমন্ত্রী জনসন : ব্রিটিশ চিকিৎসক

প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইউরোপের অন্য দেশগুলোর মতো যুক্তরাজ্যেও গত কয়েক সপ্তাহে দ্রুত ছড়াচ্ছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। ইতোমধ্যে সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৯ হাজার ৮৮৫ জন, মারা গেছেন প্রায় ১০ হাজার। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। তাদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। অনেক হাসপাতালেই রোগী ধারণক্ষমতা পূরণ হয়ে গেছে। ফলে অনেকটা বেছে বেছে গুরুতর রোগীদেরই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

দেশের এমন দুরবস্থায় চরম ক্ষুব্ধ যুক্তরাজ্যের এক নবীন চিকিৎসক। অ্যান্ড্রু মেয়ারসন নামে ওই চিকিৎসক ওরচেস্টারশয়ার রয়েল হাসপাতালে কর্মরত। গত শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানে তার মতামত প্রকাশ করা হয়েছে। পাঠকদের জন্য লেখাটির অনুবাদ তুলে ধরা হলো-

প্রিয় বরিস জনসন,

রাজনীতিতে আজকাল যেমন সবকিছুই চলছে, চিকিৎসায় ঠিক তার বিপরীত- আমাদের এমন এক পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে যাকে ‘অভূতপূর্ব ঘটনা’ বলা যায়। এগুলো তখনই ঘটে যখন নানা প্রোটোকল ও এসব ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা সত্ত্বেও রোগীকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। ‘অভূতপূর্ব ঘটনাগুলো’ এতটাই ভয়াবহ মনুষ্যসৃষ্ট বিপর্যয় যে, এতে জড়িত বেশির ভাগ চিকিৎসক বাকি কর্মজীবনে এর ভার বহন করবেন।

অনেক নবীন চিকিৎসক দুর্ঘটনা ও জরুরি বিভাগে (এঅ্যান্ডই) কর্মী স্বল্পতা নিয়েও টানা কাজ করছেন। আমি দেখেছি অত্যাধিক চাপে থাকা অবস্থার ফল কী হয়। আমার বিশ্বাস, এটাকেও ‘অভূতপূর্ব ঘটনা’ হিসেবে লিপিবদ্ধ করা উচিত। ২০১৬ সাল থেকে এক ইংল্যান্ডেই অন্তত ৫ হাজার ৫০০ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করার ফলে মারা গেছেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ১৯৭০ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ব্যক্তিদের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। আমাদের তো ক্ষোভপ্রকাশ করাই উচিত!

প্রধানমন্ত্রী, আপনি কি দয়া করে এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে একজন এনএইচএস (ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস) প্যারামেডিক, চিকিৎসক বা নার্স হিসেবে কল্পনা করতে পারেন, যখন অবস্থা এতটাই সংকটাপন্ন যে অ্যাম্বুলেন্সকে গুরুতর রোগী নিশ্চিত করতে হয় এবং আমরা করিডোরে ট্রলিতে রোগীদের মারা যেতে দেখি? দয়া করে মাত্র এক মুহূর্তের জন্য থামুন এবং আপনার অধীনে এনএইচএসে অপর্যাপ্ত বরাদ্দের মানবিক পরিণতি সম্পর্কে ভাবুন।

 

"