আগেভাগে বিধিনিষেধ তুললে ভাইরাসের ‘ভয়ংকর প্রত্যাবর্তন’: ডব্লিইএইচও

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ও মৃত্যুর হারে সামান্য অবনমন দেখে কোনো দেশ যদি আগেভাগে বিধিনিষেধ তুলে নেয়, তাহলে ভাইরাসটির আরো ভয়ংকর প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

সংস্থাটির প্রধান ড. টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস কোভিড-১৯ এর প্রকোপে বিপর্যস্ত দেশগুলোকে লকডাউন ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বনেরও পরামর্শ দিয়েছেন, জানিয়েছে বিবিসি। ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে আবির্ভূত হওয়া করোনাভাইরাস এরই মধ্যে বিশ্বের লাখো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। আক্রান্ত ছাড়িয়েছে ১৬ লাখ।

আক্রান্ত-মৃত্যু হার কমতে দেখে সম্প্রতি ইউরোপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দুই দেশ ইতালি ও স্পেন লকডাউন জারি রেখেই বেশকিছু বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। জেনেভায় ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে ড. টেড্রোস ইউরোপের কিছু দেশে কোভিড-১৯ এর প্রকোপ কমে আসার সংবাদকে স্বাগত জানান। লকডাউন ও অন্যান্য বিধিনিষেধ শিথিলের ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ওই দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আগেভাগে বিধিনিষেধ তুললে তা (ভাইরাসের) ভয়ংকর প্রত্যাবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রমণ কমার হার, সংক্রমণ বৃদ্ধির হারের মতোই বিপজ্জনক, বলেছেন ডব্লিউএইচও প্রধান। গত শুক্রবার স্পেনে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা ১৭ দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল বলে বিবিসি জানিয়েছে।

অর্থনীতির চাকা সচল করতে দেশটি গত সোমবার থেকে নির্মাণ খাত ও বেশকিছু কারখানার শ্রমিকদের কাজে ফেরার অনুমতি দিয়েছে।

বিধিনিষেধ সামান্য শিথিল করা হলেও ইউরোপের এ দেশটির সরকার জনসাধারণকে এখনো ‘সামাজিক দূরত্বের’ নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ জানিয়েছে। ইতালিতে প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কন্তে দেশব্যাপী লকডাউনের মেয়াদ ৩ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছেন; এখন পর্যন্ত ‘যা অগ্রগতি হয়েছে তাকে ধরে রাখতে হবে’ বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

লকডাউনের সময়সীমা বাড়ালেও দেশটি ছোটখাট কিছু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান গত মঙ্গলবার থেকে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে বই ও বাচ্চাদের পোশাকের দোকান আছে বলে কন্তে জানিয়েছেন। ওই তালিকায় লন্ড্রি ও আরো কিছু দোকান আছে, নিশ্চিত করেছে ইতালির গণমাধ্যমগুলো। দেশটিতে লকডাউন জারির পর থেকে কেবল মুদি আর ওষুধের দোকানই খোলা ছিল।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের হার কমিয়ে আনতে আয়ারল্যান্ডও লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার ৫ মে পর্যন্ত লকডাউন থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারাসহ ৩১টি শহরে ৪৮ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে তুরস্ক। পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট মার্সেলো রেবেলো দে সুজা জরুরি অবস্থার মেয়াদ ১ মে পর্যন্ত বাড়িয়েছেন।

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা লকডাউন বহাল রেখেই কিছু বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার কথা ভাবছে। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা গত বৃহস্পতিবার লকডাউনের মেয়াদ আরো দুই সপ্তাহ বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বিরোধীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিধিনিষেধের কারণে দেশে অর্থনীতি বিপর্যয় আসন্ন বলেও আশঙ্কা করছে তারা।

 

"