জানুয়ারিতেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দায়ী করছেন মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক না করার জন্য। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ব্রিফিং ও কারিগরি নির্দেশনা পর্যবেক্ষণ করে জানিয়েছে, ২০২০ সালের জানুয়ারির শুরুর দিকেই যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য দেশগুলোকে কোভিড-১৯ এর মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছিল সংস্থাটি। প্রাথমিক চীনা গবেষণায় ভাইরাসের সংক্রমণের উপায় সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ না থাকলে স্বাস্থ্য সংস্থা এই বিষয়ে সবাইকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গত ১৪ জানুয়ারির একটি টুইটার বার্তা তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেছেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনেক ক্ষেত্রেই ভুল। তারা হুমকির মাত্রা কম করে দেখিয়েছে। এর আগে সংস্থাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বরাদ্দ প্রত্যাহারের হুমকিও দেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সমর্থকরা স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস পদত্যাগ ও কংগ্রেসনাল তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ট্রাম্প যে টুইটটি তুলে ধরেছেন তাতে বলা হয়েছিল চীনা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ হওয়ার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কিন্তু ওই একই সপ্তাহে সংস্থাটির কর্মকর্তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এমন সংক্রমণ চিহ্নিত করা ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিল। গত ৩০ জানুয়ারি জন স্বাস্থ্যজনিত জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। এর এক দিন পর ট্রাম্প চীন সফর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন এমন ব্যক্তিদের দেশটিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঘোষণার প্রায় এক মাস পর ট্রাম্প টুইট করেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস খুব ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ তাতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কঠোর পরিশ্রম করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একের পর এক আক্রমণের মুখে করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। গত বুধবার সংস্থাটির মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস এই ভাইরাস নিয়ে রাজনীতি থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সরাসরি ট্রাম্পের প্রসঙ্গ উল্লেখ না করে আধানম

করোনা-রাজনীতিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অনুগ্রহ করে

জাতীয় পর্যায়ে ঐক্য বজায় রাখুন, কোভিড-১৯ বা রাজনৈতিক পয়েন্ট ব্যবহার করবেন না। দ্বিতীয়ত, বিশ্ব পর্যায়ে সততার সঙ্গে সংহতি বজায় রাখুন। আর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কাছ থেকে সৎ নেতৃত্ব আশা করছি।’ দৃশ্যত ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে ক্ষমতাধরদের পথের নেতৃত্ব দেওয়া উচিত এবং দয়া করে কোভিড রাজনীতিকে কোয়ারেন্টাইনে রাখুন।’

 

"