বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে হুমকি দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে ‘চীনকেন্দ্রিক’ আখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংস্থাটিকে দেওয়া মার্কিন তহবিল বন্ধের হুমকি দেন তিনি। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানির জন্যও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-কে দায়ী করেন ট্রাম্প। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে বিপুল পরিমাণ তহবিল দেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু তারা একের পর এক ভুল করেছে। তাদের তহবিল বন্ধের বিষয়ে আমরা চিন্তা-ভাবনা করব।’ তিনি বলেন, ‘তারা (ডব্লিউএইচও) বলছে, এটা ভুল, ওটা ভুল। আরো কয়েক মাস আগেই তাদের এগুলো বলা উচিত ছিল। তবে তারা সেটা করেনি। তারা বিষয়টি জানত এবং এটা তাদের জানা উচিত ছিল। আমরা বিষয়টি দেখব। তাদের অর্থ ছাড় করার বিষয়টি আমরা আটকে দিতে যাচ্ছি।’

ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের কিছুক্ষণ পরই এক সাংবাদিক জানতে চান, একটি মহামারির মধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তহবিল বন্ধ করে দেওয়া কি ঠিক হবে?

উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘এটা বলছি না যে, আমি তহবিল বন্ধ করে দিতে যাচ্ছি। তবে আমরা বিষয়টা দেখছি।’ এ সময় এক সাংবাদিক বলেন, আপনি এটাই (তহবিল বন্ধ করে দেওয়া) বলেছেন। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘না, আমি এটা বলিনি। আমি বলেছিলাম, আমরা এ বিষয়টি দেখতে যাচ্ছি। এ নিয়ে আমরা তদন্ত করতে যাচ্ছি। তবে আমরা তহবিলের ইতি টানার বিষয়টি দেখব। তাদের সবকিছুই চীনের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে হচ্ছে। এটা ঠিক নয়।’

ট্রাম্প বলেন, ‘বহু বিষয়ে তারা (ডব্লিউএইচও) ভুল করেছে। প্রথম দিকে তাদের কাছে প্রচুর তথ্য ছিল। তাদের খুব চীনকেন্দ্রিক বলে মনে হয়েছে।’

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনা পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এর প্রায় মাস খানেক পর ট্রাম্প টুইট করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাস খুব ভালোভাবেই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’ তবে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করলে এ নিয়ে নিজের আগের অবস্থান থেকে সরে আসেন তিনি।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো এক নথিতে জানুয়ারির শেষ দিকে সতর্ক করেছিলেন যে, এই ভাইরাস লাখ লাখ আমেরিকানকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রিলিয়ন ডলার গচ্চা যেতে পারে। তবে গত মঙ্গলবারের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প দাবি করেন, ওই সময়ে তিনি নথিগুলো দেখেননি। তবে নিজের বাণিজ্য উপদেষ্টার পরামর্শ অনুযায়ী তিনি চীন সফরে বিধিনিষেধ আরোপের মতো কমবেশি উদ্যোগ নিয়েছেন।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গত ২ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্পের ওই বিধিনিষেধ কার্যকর হয়। তার আগেই চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ।

 

"