করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বাড়ছেই

বেইজিং ফিরে যাওয়াদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ

প্রকাশ : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চীনে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৬২ জনে। এছাড়া আক্রান্ত হয়েছে ৬৮ হাজারেরও বেশি মানুষ। গত রোববার নতুন করে ১৩৯ জনের মৃত্যুর খবর জানায় চীনের স্বাস্থ্য কমিশন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহরের একটি বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। একপর্যায়ে এই ভাইরাস নিয়ে বিশ্বজুড়ে জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি (হেলথ ইমার্জেন্সি) ঘোষণা করে ডব্লিউএইচও। এখন পর্যন্ত অন্তত ২৮টি দেশে শনাক্ত হয়েছে এই ভাইরাস। গত রোববার প্রাত্যহিক আপডেটে স্বাস্থ্য কমিশন জানায়, নতুন করে ১ হাজার ৮৪৩ আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছে তারা।

প্রতিনিয়ত এই ভাইরাসে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। সব মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ৬০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের শরীরে প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, সর্দি, কাশির মতো সমস্যা দেখা দেয়। ভাইরাসটি যাতে ছড়িয়ে না যায়, সেজন্য হুবেই প্রদেশকে পুরো দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে চীন। ওই অঞ্চলের সঙ্গে চীনসহ বাইরের দুনিয়ার সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ছুটি কাটিয়ে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে ফিরে যাওয়া প্রত্যেককে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে (অন্য মানুষের কাছ থেকে দূরে অবস্থান) থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবিলায় গত শুক্রবার সর্বশেষ এই পদক্ষেপ ঘোষণা করা হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চীনের বিভিন্ন অংশ থেকে বেইজিং ফেরা প্রত্যেককে হয় নিজস্ব তত্ত্বাবধানে কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে বা কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত কোনো স্থানে গিয়ে থাকতে হবে।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়েত শুরু করে করোনাভাইরাস। এতে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা। চীনের সরকারি হিসাবে, গত শুক্রবার পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫২৩ জন। এছাড়া আক্রান্ত হয়েছেন আরো ৬৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে এবারে চীনা নববর্ষের ছুটি বাড়ানো হয়। চীনা নববর্ষের ছুটিতে বেইজিংয়ের দুই কোটি বাসিন্দার বেশির ভাগই দেশটির অন্যান্য অংশে পরিবারের কাছে চলে যান। ছুটি কাটিয়ে এসব বাসিন্দারা যখন ফিরতে শুরু করেছেন তখনই তাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চীনের বাইরে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে ২৪টি দেশে ৫০০-এরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। হংকং, ফিলিপাইন ও জাপানে একজন করে মারা গেছে মোট তিনজন।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব তদন্তে এই সপ্তাহে চীনে কাজ শুরু করতে যাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নেতৃত্বাধীন একটি দল। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত দলটি ভাইরাসটির ছড়িয়ে পড়া এবং এর তীব্রতা তদন্ত করবে। এছাড়া ১ হাজার ৭০০-এরও বেশি চিকিৎসাকর্মী কীভাবে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তাও খতিয়ে দেখবে দলটি। দলটিতে ১২ জন আন্তর্জাতিক সদস্যের পাশাপাশি থাকবেন ১২ জন চীনা বিশেষজ্ঞও।

 

"