মহারাষ্ট্রে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মুখে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে রাজ্যটিতে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা হয়েছে। রাজ্যপাল ভগৎ সিং কেশিয়ারির প্রতিবেদন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি শাসনের সবুজ সংকেত দেন প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ। তবে এ নিয়ে রাজ্যটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনের পর বিজেপি, শিবসেনা, এনসিপি, তিন দলকেই সরকার গঠনের জন্য আহ্বান জানান রাজ্যপাল ভগৎ সিং কোশিয়ারি। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করতে পারেননি কেউ। কেন্দ্রীয় সরকারকে এই রিপোর্ট দেওয়ার পরই মঙ্গলবার রাজ্যটিতে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হয়। এদিন বেলা ১১টায় রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলে এনসিপি। তারাও আরো সময় চায়। শিবসেনাকে সমর্থন নিয়ে এনসিপি ও কংগ্রেসের আলোচনা চলার মধ্যেই রাষ্ট্রপতি শাসনের সিদ্ধান্ত আসে।

সরকার গঠনের দাবি জানাতে শিবসেনা ব্যর্থ হয়ে তিন দিন অতিরিক্ত সময় চান। তা দিতে চায়নি রাজ্যপাল। তারপরই সোমবার সন্ধ্যায় সরকার গঠনের জন্য এনসিপিকে আহ্বান করা হয়।

শেষ মুহূর্তে সমর্থনের চিঠি দিয়ে যখন শিবসেনা রাজ্যপালের দরবার যাওয়ার জন্য প্রস্তুত; তখন কংগ্রসের পক্ষে জানানো হয় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বরং এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন।

এনসিপি নেতা তথা শরদ পাওয়ারের ভাতিজা অজিত পাওয়ার বলেন, সোমবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত, কংগ্রেসের চিঠির জন্য অপেক্ষা করছিলেন আমাদের নেতা শরদ পাওয়ার, প্রফুল্ল প্যাটেলরা।

এদিকে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে শিবসেনা। তাদের অভিযোগ, বিজেপিকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের জন্য দুইদিন সময় দেওয়া হলেও তাদের কোনো সময় দেওয়া হয়নি। শিবসেনার হয়ে সওয়াল করেন আইজীবী ও কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বল।

সোমবারও সরকার গঠন নিয়ে শরদ পাওয়ারের সঙ্গে কথা বলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। তারপরই কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের মুম্বাই পাঠান তিনি। শিবসেনার সঙ্গে সরকার গঠনের পক্ষে ছিলেন মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস নেতারা। তবে শিবসেনার সঙ্গে দলীয় নেতৃত্ব বিশেষ করে সোনিয়া গান্ধীর আদর্শগত ভিন্নতা রয়েছে। এমনকি নির্বাচনে মুম্বাইসহ মহারাষ্ট্রে যাদের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াই ছিল তাদের সঙ্গে জোট করা নিয়ে উদ্বেগ ছিল কংগ্রেস শিবিরে। তাদের আরো উদ্বেগ, বিজেপির ৩০ বছরের সঙ্গী শিবসেনা। ফলে তাদের এই বিচ্ছেদ চিরস্থায়ী হবে না।

এনডিএ থেকে তাদের প্রস্থানের বার্তা দিয়ে, সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন শিবসেনার একমাত্র মন্ত্রী।

"