হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তি

অভিযোগ অস্বীকার নেতানিয়াহুর

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রে তেল আবিবের গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গত বৃহস্পতিবার মার্কিন গণমাধ্যম পলিটিকোর এক নিবন্ধে মার্কিন প্রশাসনের তিন সাবেক কর্মকর্তা হোয়াইট হাউসের কাছে পাওয়া বেশকিছু নজরদারি যন্ত্রপাতির পেছনে ‘ইসরায়েলই আছে’ বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

নেতানিয়াহুর কার্যালয় পরে পলিটিকোর ওই প্রতিবেদনকে ‘ডাহা মিথ্যা’ আখ্যা দেয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের গোয়েন্দা তৎপরতা না চালাতে ইসরায়েল সরকারের দিক থেকে নির্দেশনা ও দীর্ঘস্থায়ী প্রতিশ্রুতি দেওয়া আছে, বলেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনিও পলিটিকোর ওই প্রতিবেদন ‘বিশ্বাস করেন না’। এখানে বিশ্বাস করার মতো কিছু পাওয়া সত্যিই কষ্টকর, ইসরায়েলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক চমৎকার। আমি এ গল্প বিশ্বাস করছি না। সব কিছুই হতে পারে, কিন্তু আমি (এটা) বিশ্বাস করি না, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

পলিটিকোর ওই প্রতিবেদনে ট্রাম্পের চলতি মেয়াদে হোয়াইট হাউস এবং ওয়াশিংটন ডিসির সংবেদনশীল বেশকিছু এলাকায় ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল সাবস্ক্রাইবার আইডেন্টিটি ক্যাচার্স (আইএমএসআই ক্যাচার্স) পাওয়ার কথা জানানো হয়।

মোবাইল ফোনের টাওয়ারের মতো কাজ করা এ যন্ত্রগুলো ব্যবহারকারীর স্থান, পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য, ফোন কল ও ডেটা ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহে সক্ষম।

হোয়াইট হাউসের আশপাশে পাওয়া এ যন্ত্রগুলো মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর নজরদারি করতেই বানানো হয়েছে বলে ধারণা মার্কিন প্রশাসনের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার। তবে যন্ত্রগুলো ব্যবহার করে গুপ্তচরবৃত্তি শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছিল কি-না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি, বলেছেন তিনি।

যন্ত্রপাতিগুলোর উৎস নিয়ে পরে অনুসন্ধানে নামে মার্কিন তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। এর পেছনে যে ইসরায়েলিরাই আছে তা সুস্পষ্ট, পলিটিকোকে বলেন সাবেক এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা।

গুপ্তচরবৃত্তির বিষয়টি জানার পরও ওয়াশিংটন এ প্রসঙ্গে তেল আবিবের কাছে কোনো ধরনের জবাবদিহি চায়নি, বলেছেন তিনি।

বিবিসি বলছে, নেতানিয়াহু অস্বীকার করলেও যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তি নতুন নয়। ইরান হয়ে ইসরায়েলে ‘গোপনীয় তথ্য’ পাঠানোর অভিযোগে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা লরেন্স ফ্রাঙ্কলিনকে ২০০৬ সালে ১৩ বছরের কারাদ- দেওয়া হয়। পরে অবশ্য তার সাজা কমে ১০ মাসের গৃহবন্দিত্বে নেমে আসে।

 

"