ট্রাম্প-রুহানির নিঃশর্ত বৈঠকের ইঙ্গিত

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের প্রধানমন্ত্রী হাসান রুহানির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিঃশর্ত বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান কোনো পূর্বশর্ত ছাড়া বৈঠকে বসতে রাজি হলে জাতিসংঘের আসন্ন অধিবেশনে দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠক হতে পারে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স।

২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে ২০১৮ সালের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। আর নভেম্বরে থেকে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল শুরু করে ওয়াশিংটন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পারমাণবিক চুক্তির প্রতিশ্রুতি থেকে পর্যায়ক্রমে সরে যাচ্ছে তেহরান। এর ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে তৃতীয়বারের মতো প্রতিশ্রুতি কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

এবারের ঘোষণায় পারমাণবিক গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার ওপর আরোপিত সব ধরনের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। এই ঘোষণার পর দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী সংশ্লিষ্ট তেল পরিবহন নেটওয়ার্কের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র শর্তহীন বৈঠকে আগ্রহী হলেও তেহরান চায়, আগে তাদের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক। চলতি মাসের শেষদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে রুহানি ও ট্রাম্পের বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (ট্রাম্প) শর্তহীন বৈঠকের জন্য প্রস্তুত।’

এর আগে সোমবার ট্রাম্প বলেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নয়ন হ্রাস করতে নিষেধাজ্ঞার মতো অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে হোয়াইট হাউস। তেহরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের লক্ষ্যেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এরপরই মঙ্গলবার টুইট বার্তায় রুহানির একজন উপদেষ্টা বলেন, ‘ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনের ছাঁটাই নির্দেশ করে তার চাপ প্রয়োগের কৌশল ব্যর্থ হচ্ছে।’

পারমাণবিক অস্ত্রের উন্নয়নের বিষয়টি অস্বীকার করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনো আলোচনা নয়।’

 

"