অবরুদ্ধ কাশ্মীরে নারীরাই সবচেয়ে ভোগান্তিতে

প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গত ৫ আগস্টের পর অনেক দিন বাড়ি থেকে বের হননি ২০ বছর বয়সি কাশ্মীরি তরুণী উজমা জাভেদ। সেদিনই যে জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা বাতিল করে গোটা উপত্যকা অঞ্চলটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।

ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সবচেয়ে বড় শহর শ্রিনগরে উজমাদের বাড়ি। প্রতিদিনই কিছু সময় পরপর দোতলা বাড়ির জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতেন উজমা।

কেরালায় পড়াশোনা করা উজমা ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদ উদ্যাপন করবেন বলে। কিন্তু তা আর হলো কোথায়? বাড়িতে আটকা পড়লেন উজমা, আর বাইরে জনমানবহীন কাঁটাতার বিছানো রাস্তায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র আধা সামরিক বাহিনী।

মাঝেমধ্যে দেখা যায়, কিছু স্থানীয় বাসিন্দা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অনুনয়-বিনয় করে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

উজমা বলেন, এ মুহূর্তে কাশ্মীরের সবাই পরাধীন। কিন্তু এই অমানবিক বন্দিদশার সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার নারীরা।

উজমাদের বাড়ির কাছেই তার বান্ধবী মুনাজার বাড়ি। এক সপ্তাহের বেশি সময় বান্ধবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন উজমা।

উজমা বলেন, ‘জানি না, মুনাজা কেমন আছে। পুরুষরা তো কোনো না কোনোভাবে নামাজ পড়ার জন্য বাইরে যেতে পারে...। আমরা তো তাও পারি না।’

সশস্ত্র বাহিনীকে দেখলেই ভয়ে সিঁটিয়ে থাকেন জানিয়ে উজমা বলেন, ‘আমি একদমই চাই না আমার ভাই আর বাবা বাইরে যাক, কিন্তু কোনো উপায়ও তো নেই। খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য তাদের বাইরে যেতেই হয়।’

সম্প্রতি ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধীদের বড় ধরনের সংঘর্ষ বাধে। উজমাদের বাড়ির পাশ দিয়েই বিক্ষোভকারীরদের বড় একটি মিছিল গিয়েছিল।

উজমার বাবা ও ভাই সে সময় বাড়িতে ছিলেন না। মায়ের সঙ্গে বাড়িতে থেকে বাবা ও ভাইয়ের জন্য প্রচ- দুশ্চিন্তা হচ্ছিল উজমার। ভয় পাচ্ছিলেন তারাও বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন কি-না, এই ভেবে। এতই দুশ্চিন্তা হচ্ছিল উজমার যে তার ব্লাডপ্রেশার বেড়ে যায়। রাতে বাবা ও ভাই বাড়ি ফিরলে উজমাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।

ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের বলে স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা ভোগ করত জম্মু-কাশ্মীর। সে সুবিধা বাতিল করে কাশ্মীরকে সেনা অবরুদ্ধ করে রেখেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট বন্ধ করে উপত্যকার ৭০ লাখের বেশি জনগণকে বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য দাবি করছে, আংশিকভাবে যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

 

"