৫ পরাশক্তিকে কাশ্মীর ইস্যুতে ব্রিফ করল ভারত

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার বাতিল এবং দুই কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার বিষয়ে জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্য ও ভেটো ক্ষমতাধর পাঁচটি দেশের কূটনীতিকদের ব্রিফ করেছে ভারত। গত সোমবার সরকারের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর এই ব্রিফ করা হয় বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে চীন, ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূতদের কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিফ করেন। অন্যান্য রাষ্ট্রের দূতদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবরা ব্রিফ করেছেন।

খবরে বলা হয়েছে, দুপুরে ব্রিফিং শুরু হয়ে চলে পড়ন্ত দুপুর পর্যন্ত। দূত ও কূটনীতিকদের সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা দেন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। তবে পাকিস্তান এই তালিকায় ছিল না। জাতিসংঘের স্থায়ী সদস্যদের ছাড়া কূটনীতিকদের মধ্যে যারা বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ দেখাবে তাদের ব্রিফ করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, ব্রিফে রাষ্ট্রদূতদের বলা হয়েছে, কাশ্মীরের ইস্যুটি অভ্যন্তরীণ বিষয়। রাজ্যটিতে সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্যই সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

পাকিস্তান যখন কাশ্মীর সংকটে ভূমিকা নেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানালো তখনই ভারত এই ব্রিফিংয়ের আয়োজন করল। ভারতীয় সংবিধানের যে অনুচ্ছেদে কাশ্মীরকে স্বায়ত্তশাসিত রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে, গত সোমবার সেই ৩৭০ নম্বর ধারা বাতিলের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এই ধারার আওতায় জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজস্ব সংবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। ৩৭০ ধারার সঙ্গে সঙ্গে এর আওতায় থাকা ৩৫/এ ধারাও বাতিল হয়ে গেছে। এই ধারায় কাশ্মীরবাসী বিশেষ সুবিধা ভোগ করত।

গত সোমবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, জম্মু ও কাশ্মিরের বিরোধপূর্ণ ‘স্ট্যাটাসের’ পরিবর্তন ভারত সরকার একতরফাভাবে করতে পারে না। কারণ, ওই অঞ্চলের ‘মর্যাদা’ কী হবে তা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে উল্লেখ করা আছে। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর ও পাকিস্তানের কাছে (ভারতের) এই সিদ্ধান্ত কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না। আন্তর্জাতিক এই বিরোধে পাকিস্তান একটি অংশ যেহেতু, তাই ভারত সরকার যেসব অবৈধ পদক্ষেপ নেবে তার পাল্টা সব পদক্ষেপ নেবে পাকিস্তান।

"