চীনকে ‘কারেন্সি ম্যানিপুলেটর’ তকমা দিল যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডলারের বিপরীতে চীনের মুদ্রার মান এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে নিচে নামিয়ে আনার পর ওয়াশিংটন বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে মুদ্রা নিয়ে কারসাজি করার অভিযোগ এনেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় গত সোমবার চীনকে ‘কারেন্সি ম্যানিপুলেটর’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এই ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে চলমান শুল্ক যুদ্ধকে আরো ঘনীভূত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা। ১৯৯৪ সালে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র চীনের বিরুদ্ধে মুদ্রা নিয়ে কারসাজির অভিযোগ করেছিল। আড়াই দশক পর একই অভিযোগে বেইজিংয়ের দিকে আঙুল তুলল তারা।

ওয়াশিংটন বলছে, চীনের কারসাজির কারণে মার্কিন ডলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; অন্যদিকে স্বর্ণের দাম বেড়ে ছয় বছরের মধ্যে সবচেয়ে উঁচু স্থানে পৌঁছেছে। চীনকে ‘কারেন্সি ম্যানিপুলেটর’ ঘোষণার মাধ্যমে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মুনচিন মুদ্রা নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করলেন; প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে কার্যালয়ে বসার প্রথম দিনই ডোনাল্ড ট্রাম্প এ আলোচনা শুরুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

‘সাম্প্রতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে যে অন্যায্য সুযোগ নেওয়ার পথ সৃষ্টি করল, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে মিলে মুনচিন তা দূর করতে কাজ করবেন,’ বলেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। এ প্রসঙ্গ নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফের) তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। গত মাসে বৈশ্বিক এ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি চীনা মুদ্রা ইউয়ান অর্থনৈতিক মৌলিক বিষয়গুলোর সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে জানিয়েছিল; উল্টো দিকে মার্কিন ডলার ছিল ৬ থেকে ১২ শতাংশের মতো অতি মূল্যায়িত, বলেছিল তারা। চীন তাদের মুদ্রার মান ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমিয়ে দশককালেরও বেশি সময় পর প্রথমবার ডলারপ্রতি ৭ ইউয়ানের বেশি করার পর ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নিল।

বেইজিং মার্কিন কৃষিপণ্য ক্রয় স্থগিত রেখে দুই দেশের চলমান বাণিজ্য যুদ্ধে আরো হাওয়া দিচ্ছে; এ যুদ্ধ পুঁজিবাজারকে টালমাটাল রেখেছে, আমদানি-রফতানিকে বিঘিœত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির গতিও সøথ করে দিচ্ছে বলে ভাষ্য রয়টার্সের। ওয়াশিংটনের দিক থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগেই গত সোমবার ট্রাম্পও টুইটারে চীনের বিরুদ্ধে ইউয়ান নিয়ে কারসাজি করার অভিযোগ করেন। ‘চীন তাদের মুদ্রার মান কমিয়ে ইতিহাসের প্রায় সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে গেছে। একে বলে মুদ্রা নিয়ে কারসাজি। ফেডারেল রিজার্ভ তোমরা কি শুনছো? এটা একটা বড় ধরনের লঙ্ঘন, যা চীনকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরো দুর্বল করবে,’ বলেছেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট গত সপ্তাহে চীনের আরো ৩০০ বিলিয়ন ডলার রফতানি পণ্যে আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে পুঁজিবাজারকে স্তম্ভিত করে দিয়েছিলেন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মুদ্রা কারসাজির অভিযোগ ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করলেও ইউয়ানের বিনিময় হারের ওপর যে চীনা কর্তৃপক্ষের প্রভূত নিয়ন্ত্রণ আছে, গত সোমবার চীনের পিপলস ব্যাংক তা স্পষ্ট করেছে। মুদ্রার মান কমানো নিয়ে শিল্পোন্নত ২০টি দেশকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বেইজিং, তাও তারা ভঙ্গ করেছেÑ অভিযোগ ওয়াশিংটনের।

চীন দ্রুতই ওইসব প্রতিশ্রুতি মেনে চলার কাজ শুরু করবে এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতার উদ্দেশ্যে মুদ্রা বিনিময় হারকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে না বলেও আশা মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো একটি দেশকে ‘কারেন্সি ম্যানিপুলেটর’ আখ্যা দেওয়ার পরপরই মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়কে ওই দেশের সঙ্গে অবমূল্যায়িত মুদ্রার বিষয়টি ঠিক করার বিষয়ে বিশেষ আলোচনায় বসতে হয়। পাশাপাশি শাস্তি হিসেবে মার্কিন সরকারের সঙ্গে করা বিভিন্ন চুক্তি থেকেও ওই দেশকে বাদ দেওয়া হয়। ১৯৮৮ সালে মার্কিন কংগ্রেস মুদ্রা পর্যালোচনা আইনটি কার্যকর করার পরপরই তাইওয়ান ও দক্ষিণ কোরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্র ‘কারেন্সি ম্যানিপুলেটর’ আখ্যা দিয়েছিল। ১৯৯৪ সালে সর্বশেষ চীন এ তকমা পেয়েছিল।

"