কুলভুষণের মৃত্যুদণ্ড

পাকিস্তানকে রায় পুনর্বিবেচনার অনুরোধ আন্তর্জাতিক আদালতের

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে পাকিস্তানের সামরিক আদালতে সাবেক ভারতীয় নৌসেনা কুলভুষণ যাদবকে দেওয়া মৃত্যুদ-ের রায় পুনর্বিবেচনা করতে বলেছে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস। হেগের এই আদালতের ১৬ বিচারকের প্যানেল গত বুধবার সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারকের মতামতের ভিত্তিতে এই রায় ঘোষণা করে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস বলেছেন, কুলভুষণ যাদবের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকদের দেখা করার সুযোগ না দিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। রায়ে বলা হয়েছে, পাকিস্তান রায় ও সাজা পুনর্বিবেচনা করার আগ পর্যন্ত কুলভুষণের মৃত্যুদ- স্থগিত থাকবে। পাশাপাশি তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে ভারতীয় কূটনীতিকদের।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের সদস্য দেশ হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের এই রায় মানার বাধ্যবাধকতা রয়েছে পাকিস্তানের। তবে রায় কার্যকর করার ক্ষেত্রে এই আন্তর্জাতিক আদালতের কোনো ক্ষমতা নেই।

ভারতীয় নৌবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কুলভুষণকে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। বেলুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহে মদদ দেওয়া এবং ভারতের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে ভারত দাবি করে, কুলভুষণ তার ব্যবসার কাজে ইরানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে তাকে অপহরণ করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং মিথ্যা অভিযোগে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

পাকিস্তানের সামরিক আদালত ২০১৭ সালের এপ্রিলে কুলভুষণকে মৃত্যুদ- দিলে এর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে যায় ভারত। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিচার চলাকালে ৪৯ বছর বয়সি কুলভুসণের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকদের দেখা করতে না দিয়ে পাকিস্তান ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে।

ভারতের ওই আবেদনে কুলভুষণের মৃত্যুদ- স্থগিত রাখার আদেশ দেয় হেগের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস। এ মামলা আন্তর্জাতিক আদালতের ‘এক্তিয়ারভুক্ত নয়’ বলে শুনানিতে যুক্তি দেখিয়েছিল পাকিস্তান। তবে তাদের সে যুক্তি ধোপে টেকেনি।

গত বুধবার ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের রায়ে বলা হয়, কুলভুষণকে তার আইনি অধিকারের বিষয়ে জানাতে পাকিস্তান ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি তার সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ না দিয়ে ভারত সরকারের অধিকার খর্ব করেছে। পাকিস্তানের সামরিক আদালতের বিচার পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে ভারত আন্তর্জাতিক আদালতে বলেছিল, মৃত্যুদ- বাতিল করে কুলভুষণকে দেশে ফেরত পাঠানোর আদেশ দেওয়া হোক। তবে হেগের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস কুলভুষণকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেয়নি।

"