ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চাই না : যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার বলেছেন, তার দেশ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চায় না। বিষয়টি নিয়ে বরং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে আগ্রহী ট্রাম্প প্রশাসন। মঙ্গলবার মার্কিন সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসপার বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে না জড়ানোর ব্যাপারে আমার সমর্থন রয়েছে। আমাদের তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানে যেতে হবে।

ইরানের ব্যাপারে কূটনীতিকে ‘সবচেয়ে যুক্তিপূর্ণ উপায়’ মনে করেন কি না? সিনেটরদের এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, কূটনীতি সব সময়ই এমন ছিল।

তিনি বলেন, পারস্য উপসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর চলাচল নির্বিঘœ করতে এগুলোর চলাচলের ওপর নজর রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। এ লক্ষ্যে মার্কিন সরকার মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে চায়। এ বিষয়ে শিগগিরই সিনেটকে জানাবে ট্রাম্প প্রশাসন।

গত ২০ জুন আমেরিকার একটি চালকবিহীন ড্রোন ইরানের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করলে সেটিকে গুলি করে ভূপাতিত করে ইরানি বাহিনী। ওই ঘটনা দুই দেশের বিদ্যমান উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দেয়। ওই ঘটনার পর এ মাসের গোড়ার দিকে ইসরায়েলপন্থি মার্কিন খ্রিস্টদের এক অনুষ্ঠানে তেহরানের কঠোর সমালোচনা করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স। এ সময় ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ক্রিস্টিয়ানস ইউনাইটেড ফর ইসরায়েল (সিইউএফআই)-এর সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে মাইক পেন্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ক্ষতিকর প্রভাবের বিরোধিতা চালিয়ে যাবে। আমেরিকা কখনো তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেবে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধের জেরে পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে স্বাক্ষরিত পরমাণু চুক্তি থেকে ইরানের আংশিক সরে আসায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ ঘটনায় অবিলম্বে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য পরাশক্তিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ঐতিহাসিক পরমাণু সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে আসায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় তেহরান। ৭ জুলাই থেকে এটি কার্যকরের কথা রয়েছে। এ প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু বলেন, তেহরানের এভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের একটাই উদ্দেশ্য। আর তা হচ্ছে পারমাণবিক বোমা তৈরি করা। অথচ পশ্চিমা নেতারা এই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের হার বাড়ানো মাত্রই দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের অঙ্গীকার করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধের জেরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৫ শতাংশে উন্নীতের ঘোষণা দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো পরমাণু চুক্তির প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসে ইরান। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে এই মাত্রা ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশে সীমিত রাখার প্রতিশ্রুতি ছিল তেহরানের। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি চুক্তির প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ইউরোপকে ৬০ দিনের বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হওয়ার পর এই ঘোষণা এলো।

চুক্তি রক্ষায় তেহরানের অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে ইরানি উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকশি অভিযোগ করেছেন, ইউরোপ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা থেকে ইরানকে রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে প্রতি ৬০ দিন পর পর নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে কিছুটা সরে আসার হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এমন ঘোষণা এলো।

২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের ৫ সদস্য রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানির স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৮ সালের নভেম্বরে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল হয়। এদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এ সমঝোতা বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালনে ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে এ বছরের মে মাসে তেহরান চুক্তি থেকে আংশিক সরে আসার ঘোষণা দেয়। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, পার্স টুডে।

 

 

"