মুম্বাইয়ের ‘দাবাং লেডি’র জীবন জয়ের কাহিনি ভাইরাল

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জীবন সব সময় সরলরেখায় চলে না। নানা ধরনের সংকট আসে। সংকটগুলো কাটিয়ে জীবনটাকে জয় করা কঠিন। লড়াই করে সেগুলো দূর করতে হয়। এভাবেই জীবনের নানা সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন ভারতের মুম্বাইয়ের শিরীন।

একের পর এক প্রিয়জনের মৃত্যু, বিবাহ বিচ্ছেদ, তিন সন্তান, যাদের মধ্যে একজনের বয়স মাত্র তিন মাস, তাদের নিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এসে অটোরিকশা চালিয়ে জীবন চালানো কঠিন কাজই বটে। তিনি সেই কঠিন কাজটিই করছেন। শিরীনের কোনো পদবি নেই। মুম্বাইয়ের রাস্তায় অটোরিকশা চালান তিনি। রোববার (৮ জুলাই) ‘হিউম্যানস অব বোম্বে’ নামে একটি ফেসবুক পেজে শিরীনের জীবনের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে নিজের ভাষায় নিজের জীবনযুদ্ধের গল্প বলেছেন তিনি।

শিরীন লিখেছেন : ‘এক রক্ষণশীল মুসলিম পরিবারে আমার জন্ম। প্রতিনিয়ত বাবা-মায়ের মধ্যে ঝগড়া লাগত। আমার বয়স যখন ১১, তখন বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। বিচ্ছেদের পর মা আবার বিয়ে করেন। মা যা ঠিক মনে করতেন তাই করতেন। আর মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের জন্য মাকে চারপাশের পুরুষদের তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়তে হতো। একবার ভাইকে নিয়ে বাইরে বেরিয়েছিলেন মা। সেখানে ওদের ঘিরে ধরে আমাদের সম্প্রদায়ের কিছু লোক। তীব্র কটাক্ষ করে তারা। এমনকি মায়ের চরিত্র নিয়ে অপমান করে। ওই লোকগুলো আমার ভাইকেও গালিগালাজ করে, যা আমার মায়ের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। মায়ের মানসিক অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, সে রাতেই নিজের গায়ে আগুন দেন। মাকে হারানো জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি ছিল। তাও আমরা বাঁচার চেষ্টা করি। এক বছরের মধ্যেই আমাদের দুই বোনের বিয়ে দিয়ে দেন বাবা।

পণের জন্য আমার বোনের ওপর তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা চাপ দিতে থাকে। বোন যখন গর্ভবতী ছিল তখন তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে বিষ খাইয়ে দেয়। এ ঘটনা পুরোপুরি আমাকে ভেঙে দেয়। আমি আমার জীবনের সবচেয়ে প্রিয় দুজনকে হারালাম। আমি তখন গর্ভবতী। কিছুদিন পরই আমার ছেলে জন্মায়। তার জন্যই আমাকে বাঁচতে হতো।

স্বামীর সঙ্গে আমার ঝগড়া শুরু হতে লাগল। তৃতীয় সন্তানের জন্মের পর আমার স্বামী আমাদের দেখভাল করতে অস্বীকার করে। সে শুধু আমার সঙ্গে সহবাস করতে চেয়েছিল। যখন তার সেই চাহিদা মিটে যায়, সে তিন তালাক দিয়ে দেয় আমাকে। আমাকে তিনটি সন্তান নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হয়।

তিন সন্তান নিয়ে আমি তখন রাস্তায় একা। একটি বিরিয়ানির দোকান দিলাম। কিন্তু এক দিন পৌরসভা সেটাও ভেঙে দেয়। আমার স্বামী অটোরিকশা চালাত। সিদ্ধান্ত নিলাম, আমিও অটোরিকশা চালাব।

অটোরিকশা থেকে ভালোই আয় হতে লাগল। তবে সেই সঙ্গে বহু মানুষের হেনস্তা, নির্যাতন, অপমান সহ্য করতে হতো। নারী বলে অনেকেই আমাকে ভরসা করতে পারতেন না। অন্য অটোচালকদের হেনস্তার মুখে পড়তে হয়েছে আমাকে।

 

"