ইরান-ইয়েমেন উপকূল সুক্ষায় সামরিক জোট চায় যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান ও ইয়েমেন উপকূলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ সুরক্ষার জন্য সামরিক জোট গঠনের পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি আগামী দুই সপ্তাহ বা ওই রকম সময়ের মধ্যে এই জোটে যোগ দিতে ইচ্ছুক মিত্রদের নাম তালিকাভুক্ত করার আশা করছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফের চেয়ারম্যান মেরিন জেনারেল যোশেফ ডানফোর্ড। ওই উপকূলগুলোতে ইরান ও ইরান-সমর্থিত যোদ্ধারা বিভিন্ন জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের। সম্প্রতি সামরিক জোট গঠনের এই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

পরিকল্পনা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ওই সামরিক জোটের জন্য কমান্ড জাহাজ সরবরাহ করবে এবং নজরদারি প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেবে। মিত্র বাহিনীগুলোর জাহাজগুলো মার্কিন কমান্ড জাহাজগুলোর কাছাকাছি টহল দেবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে পাহারা দেবে।

মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এস্পার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর সঙ্গে বৈঠক করার পর সাংবাদিকদের কাছে এসব বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন জেনারেল ডানফোর্ড।

হরমুজ প্রণালি ও বাব আল মানডাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ‘স্বাধীনতা’ নিশ্চিত করতে জোট বাহিনী মোতায়েন করা যায় কি না, তা নিয়ে বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে এ সময় জানান তিনি।

কোন কোন দেশগুলো এই উদ্যোগে অংশ নিতে চায় তা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে নিশ্চিত হয়ে যাবে, তিনি এমন ধারণা করছেন বলেও জানান ডানফোর্ড। তারপর কোন দেশের সামরিক বাহিনী এই উদ্যোগে কেমন সমর্থন দিতে পারবে তা শনাক্ত করতে তারা ‘সরাসরি কাজ করবেন’ বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশ্বব্যাপী জাহাজযোগে সরবরাহ হওয়া তেলের এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যায়। নিজেদের তেল রফতানি করতে না পারলে নিজেদের উপকূলসংলগ্ন প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছে ইরান। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে দেশটিকে একটি চুক্তিতে রাজি হতে বাধ্য করতে ইরানের তেল রফতানির লাগাম টেনে ধরতে চাইছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।

অপরদিকে লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্তকারী বাব আল মানডেব প্রণালিটি ইয়েমেন সংলগ্ন। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা বিভিন্ন সময় এই জলপথে কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের। প্রতিদিন এই প্রণালি হয়ে প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হয়।

 

"