তেহরানকে সতর্ক করলেন ট্রাম্প ও পম্পেও

জরুরি বৈঠকে বসছে পরমাণু চুক্তির আওতাধীন দেশগুলো

প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের সঙ্গে পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী দেশগুলো জরুরি বৈঠকে বসতে পারে বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মাত্র এক দিন আগেই ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধের মাত্রা আরো বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। তারপরই নিজেদের মধ্যে বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছে পরমাণু চুক্তির আওতাধীন দেশগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনির মুখপাত্র মায়া কাসিয়ানচিচ গত রোববার ভিয়েনায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষকারী দেশগুলো জরুরি বৈঠকে বসার বিষয়টি বিবেচনা করছে। এর কারণ হিসেবে ইরানের পক্ষ থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর ঘোষণার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের এমন ঘোষণায় এসব দেশে ‘গভীর উদ্বেগ’ তৈরি হয়েছে।

গত বছর পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার এক বছর পূর্তিতে নিষেধাজ্ঞাগুলো এড়ানোর উপায় বের করতে চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ৬০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিল ইরান। কিন্তু ওই সময়সীমা শেষ হয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি ইউরোপীয় দেশগুলো। এরই মধ্যে ইরানের তরফ থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধের মাত্রা বাড়ানোর ঘোষণা এসেছে।

ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া এবং ইউরোপের পক্ষ থেকে এটি বাস্তবায়নে গড়িমসি করার বিষয়টি অনেকটা চেপে গেছেন কাসিয়ানচিচ। সে বিষয়ে কোনো কিছু উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ইরানের নতুন ঘোষণার পর আসন্ন জরুরি বৈঠকে পরমাণু সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী অবশিষ্ট দেশগুলো তাদের করণীয় নির্ধারণ করবে।

ইরান গত চার বছর ধরে পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেও ২০১৮ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে অন্যায়ভাবে বেরিয়ে যায়। এরপর ইউরোপ ইরানকে এ সমঝোতা বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও তা পালনে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়।

পশ্চিমা দেশগুলোর এমন আচরণের প্রতিক্রিয়ায় ইরান গত ৮ মে ইউরোপীয় দেশগুলো ৬০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছিল, এ সময়ের মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করতে হবে। তা না হলে তেহরান এ সমঝোতায় নিজের দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতি পালন স্থগিত রাখবে। তেহরানের দেওয়া সে সময়সীমা গত রোববার শেষ হওয়ার পর ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ অবশ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কর্মকর্তা ফেডেরিকা মোগেরিনিকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, তার দেশ এখনো যে কোনো সময় আলোচনায় বসতে প্রস্তুত রয়েছে এবং ইউরোপীয়রা তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করলে ইরানও আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

এদিকে, ইরানের এ ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তেহরানের উচিত সাবধান হওয়া। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এক প্রতিক্রিয়ায় টুইট বার্তায় বলেছেন, ‘ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বৃদ্ধির পদক্ষেপ দেশটিকে আরো কোণঠাসা করে দেবে এবং তাদের ওপর আরো বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ইরান যাতে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে না পারে জন্য বিশ্বের দেশগুলোর চেষ্টা করা উচিত।’ ইরানের পরমাণু বোমা গোটা বিশ্বের জন্য বিপদজনক হয়ে দাঁড়াবে বলে পম্পেও মন্তব্য করেন।

ইরান এ পর্যন্ত দুই ধাপে পরমাণু সমঝোতার কিছু কিছু ধারা বাস্তবায়ন না করার উদ্যোগ নিয়েছে। তেহরান জানিয়ে দিয়েছে, ইউরোপ যদি এখনো তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে এগিয়ে না আসে তাহলে ইরান পরবর্তী আরো ৬০ দিনে তৃতীয় ধাপের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করবে।

প্রকৃতপক্ষে, মার্কিন কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে গেলেও এবং ইরান বিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবেলায় ইউরোপ তাদের প্রতিশ্রুতি পালনে গড়িমসি করলেও তেহরান কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবে না এবং কেবল জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মৌখিক প্রতিশ্রুতিতেই ইরান সন্তুষ্ট থাকবে। পরমানুু সমঝোতার ব্যাপারে ইরানের সাম্প্রতিক কঠোর পদক্ষেপ শুধু ইউরোপকেই চিন্তিত করে তুলেছে তাই নয় একইসঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তারাও প্রতিক্রিয়া দেখাতে বাধ্য হয়েছে ও তাদের মধ্যে অস্থিরতা লক্ষ করা গেছে। ইউরোপ নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে ইরানের পরমাণু সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম স্থগিত রেখে পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছে।

ইরান পর্যায়ক্রমে পরমাণু সমঝোতার বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়ন স্থগিত রাখায় বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়ায় মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তাদের ধারণা ছিল ওয়াশিংটনের নিষেধাজ্ঞা এবং ইউরোপের গড়িমসির ব্যাপারে ইরান চুপচাপ থাকবে। কিন্তু এটা প্রমাণিত হয়েছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো ইরানিদেরকে চিনতে পারেননি এবং তিনি বাস্তবতার নিরিখে বিবেচনা না করে অলীক কল্পনাপ্রসূত কথাবার্তা বলছেন।

 

"