পরমাণু চুক্তি

আলোচনা করবে ইরান ও ফ্রান্স

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্যারিস পরমাণু চুক্তিকে টিকিয়ে রাখতে নতুন করে আলোচনার ক্ষেত্রগুলো বিবেচনা করার ব্যাপারে সম্মত হয়েছে ইরান ও ফ্রান্স। গত শনিবার রাতে এক ফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ ব্যাপারে সম্মতি জানান। পরমাণু সমঝোতায় ইউরোপের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য তেহরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ৬০ দিনের আলটিমেটাম শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এ টেলিফোন সংলাপ অনুষ্ঠিত হলো।

২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় ইরানের সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্য রাষ্ট্রÑ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন (পি-ফাইভ) ও জার্মানি (ওয়ান) পরমাণু চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দেয় তেহরান। পূর্বসূরি ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে গত বছরের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর নভেম্বরে তেহরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়। অন্যদিকে ইউরোপীয় দেশগুলো এ সমঝোতা বাস্তবায়নের কথা মুখে বললেও কার্যত তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করে আসছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি পালনে ইউরোপীয় দেশগুলোর ব্যর্থতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানিয়ে দেশটি চুক্তি থেকে আংশিক সরে আসার ঘোষণা দেয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়।

গত শনিবার রাতে শেষ হয়েছে সে সময়সীমা। ইরান এরই মধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, (গতকাল) রোববার থেকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেবে তারা। ইউরোপকে বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে আগে গত শনিবার ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সে সময় আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো যথাযথভাবে পালনের জন্য ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান রুহানি। এ সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করার লক্ষ্যে আবার আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিলে হাসান রুহানি বলেন, ইরানের ওপর থেকে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলে ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে আবার ইরানের আলোচনা শুরু হওয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি হতে পারে।

প্রেসিডেন্ট রুহানি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্মক চাপ, হুমকি ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান গত ১৪ মাস ধরে কৌশলগত ধৈর্য অবলম্বন করে একতরফাভাবে পরমাণু সমঝোতা মেনে চলেছে। কিন্তু এখন সে ধৈর্যের সীমা শেষ হয়ে এসেছে।

টেলিফোনালাপে ইরানের প্রেসিডেন্ট তার দেশের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞাকে ‘সর্বাত্মক অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ ও যুদ্ধ’ আখ্যায়িত করে বলেন, এই যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বে নয়া হুমকির জন্ম হতে পারে। তিনি বলেন, ইরান সম্প্রতি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা পরমাণু সমঝোতা অনুসরণ করেই নেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে এ সমঝোতা রক্ষার লক্ষ্যেই এটা করেছে তেহরান। এ অবস্থায় ইউরোপীয় দেশগুলোকে নিজেদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করে এ সমঝোতা রক্ষার জন্য আগের চেয়ে বেশি সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান রুহানি।

টেলিফোনালাপে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, শুরু থেকেই তার সরকার পরমাণু সমঝোতা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার বিরোধিতা করে এসেছে।

তিনি দাবি করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করতে চায় এবং প্যারিস এ লক্ষ্যে তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে ইউরোপ ইরানকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে স্বীকার করেন ম্যাক্রোঁ। এখন থেকে এ লক্ষ্যে আরো বেশি তৎপরতা চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

 

"