ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বাড়িয়েছে ইরান

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের পরিমাণ ৫ শতাংশে উন্নীত করতে যাচ্ছে। এ হার ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে করা পরমাণু চুক্তিতে বেঁধে দেওয়া মাত্রার চেয়ে বেশি।

গতকাল রোববার ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসবে বলে দেশটির এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের এ পদক্ষেপ দেশটির সঙ্গে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী ইউরোপীয় অংশীদারদের সম্পর্ককে নাজুক করে তুলতে পারে বলে ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিতে লাগাম টানার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার শর্তে ২০১৫ সালে স্বাক্ষরিত জয়েন্ট কম্প্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র গত বছর নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞাও পুনর্বহাল করে।

তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধের পরিমাণ বাড়ানোর ঘোষণা দিলে দুই দেশের মধ্যকার সংকট আরো গভীরে গড়াবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইরানি কর্মকর্তা গত শনিবার বলেন, মূল যে ঘোষণা হতে যাচ্ছে, তা হলোÑ সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার; চুক্তিতে এটি সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ করতে রাজি হয়েছিলাম আমরা।

যুক্তরাষ্ট্র জেসিপিওএ থেকে বেরিয়ে তেহরানের ওপর আগের সব নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করার পর থেকেই ইরান চুক্তি বাঁচাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছ থেকে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা ও পদক্ষেপ চাইছিল। ইরানের তেল রফতানি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা এড়াতে উপায় বের করতে চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যকে গতকাল রোববার পর্যন্ত সময়ও দিয়েছিল।

ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা পার্স গতকাল রোববার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় পরমাণুবিষয়ক জ্যেষ্ঠ মধ্যস্থতাকারী আব্বাস আরাকচি পরমাণু চুক্তির আরো কিছু শর্ত থেকে তেহরানের বেরিয়ে আসার ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছে।

২০১৫ সালের চুক্তির আগে ইরান ইউরেনিয়াম ফিসাইল ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করত। এই মাত্রায় সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত থাকলে ইরান সহজেই পরমাণু অস্ত্র বানাতে পারত বলে অনুমান বিশ্লেষকদের। ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে চুক্তিতে ওই সমৃদ্ধকরণের মাত্রা নামিয়ে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ করার অনুমতি দেওয়া হয়। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে গেলেও ইউরোপের দেশগুলো ওই পরমাণু চুক্তির শর্ত মেনে চলতে ইরানকে চাপ দিয়ে আসছিল।

অন্যদিকে শিয়া সংখ্যাগরিষ্ঠ এ দেশটি গত কয়েক মাস ধরেই চুক্তি বাঁচাতে ইউরোপীয় দেশগুলো তেমন কিছুই করছে না বলে অনুযোগ করে আসছিল। গতকাল রোববার ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের নতুন ঘোষণা ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যকে বেকায়দায় ফেলবে বলেও ভাষ্য পর্যবেক্ষকদের।

তেহরানের নতুন পদক্ষেপ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর চরম উদ্বেগের মধ্যেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, তিনি এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে ইরানের পরমাণু প্রশ্নে নতুন আলোচনা শুরুর শর্তগুলো ঠিক করতে একমত হয়েছেন।

‘ইরানের পরমাণু ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা কমিয়ে আনতে’ ম্যাক্রোঁ তেহরানের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রাখবেন বলেও তার দফতর জানিয়েছে। ইরান শুরু থেকেই তার পরমাণু কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে আসছে। বোমা বানাতে নয়, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য কাজে পরমাণুর ব্যবহারই তেহরানের লক্ষ্য, বলছে তারা।

 

"