পশ্চিমবঙ্গের নাম ‘বাংলা’র প্রস্তাব বাতিলে হতাশ বিশিষ্টজনরা

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের ‘পশ্চিমবঙ্গ’ প্রদেশের নাম বদলে ‘বাংলা’ রাখার প্রস্তাব আবারও নাকচ করে দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেশী বাংলাদেশের নামের প্রথম অংশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের নতুন নাম মিলে যাওয়ায় তা বাতিল করা হয়েছে।

গত বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বের সময় এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রায়। রাজ্যের নাম ‘পশ্চিমবঙ্গ’ বদলে ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদন করছে না বলে জানান এই মন্ত্রী। সংসদে এই তথ্য জানার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম বদলের এ প্রস্তাব আবারও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানোর আভাস দিয়েছেন তিনি। এ বিষয়ে ভারতের বিশিষ্টজনরা প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন।

সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় বলেছেন, এতে আমি খুব হতাশ হয়েছি। হতাশা এ কারণে আমাদের ‘বাংলা’ নামটাই অরিজিনাল নাম ছিল। দেশভাগের পর তা হয় পশ্চিমবঙ্গ। হয়তো তখনো নামের পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন ছিল না। আমি আশা করেছিলাম, এবারের এই নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব কেন্দ্র হয়তো আনুকূল্যের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। এ প্রস্তাব কেন্দ্র থেকে খারিজ করে দেয়ার হয়তো বিশেষ কিছু কারণ আছে। যেমন বাংলাদেশের সঙ্গে ‘বাংলা’ নামের সার্থকতা। এ ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের নাম বঙ্গদেশ হতে পারে। তবে পশ্চিমবঙ্গ একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা যারা দেশ বিভাজনের আগে বাংলায় জন্মেছি, তাদের সেন্টিমেন্ট অনেকটাই জড়িয়ে আছে এ নামের সঙ্গে। পশ্চিমবঙ্গের নাম পাল্টে ‘বাংলা’-এর বদলে ‘বঙ্গদেশ’ হলে হয়তো কেন্দ্র তা গ্রহণ করতেও পারে।

অভিনেতা কৌশিক সেন বলেন, খবরটা আমি খুব ভালো করে জানি না। জানলে হয়তো বলতে পারব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঠিক কী যুক্তি, এই প্রস্তাব খারিজ করা নিয়ে, তা আগে জানা প্রয়োজন। এখানে কোনো পক্ষের ব্যাপার নেই, দুই পক্ষের যুক্তি জানতে হবে। বাংলা নামটা কেন পশ্চিমবঙ্গ সরকার চেয়েছিল, সেই যুক্তি আমার কাছে পরিষ্কার। যারা এটাকে খারিজ করল, তাদের যুক্তিও জানা প্রয়োজন। আমি সত্যিটা না জেনে কোনো সঠিক মন্তব্য করতে পারব না। নাট্য ব্যক্তিত্ব রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত বলেন, আমাদের দেশ অনেকগুলো প্রদেশের সমাহার। সুতরাং এর কেন্দ্রে যারা আছেন, তাদের খেয়াল রাখা উচিত যে, যতগুলো প্রদেশ আছে এই মহাদেশের মধ্যে, তাদের নিজস্ব কতগুলো স্বাতন্ত্র আছে। প্রদেশগুলোর নিজস্বতা ও সক্রিয়তা আছে, তাদের খাদ্য, সংস্কৃতি ও স্বপ্ন দেখাতেও।

 

 

"