রাহুলকে আক্রমণ মমতার

প্রকাশ | ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দিনভর পরপর তিনটি নির্বাচনী জনসভা সেরে বিকেলে দলীয় দুই প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন এবং মৌসম বেনজির নুরকে নিয়ে ইংলিশবাজার থেকে ওল্ড মালদহ পর্যন্ত রোড শো। গত বৃহস্পতিবার গোটা দিন ধরে জনস্রোতে ভেসে কংগ্রেসের গড় মালদহে ‘পরিবর্তন’-এর হাওয়াকে পশ্চিমবঙ্গে আরো জোরে বইয়ে দিয়ে গেলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এমনটাই মনে করছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাদের দাবি, শুধু পরিবর্তনের প্রত্যাশা বাড়িয়ে দেওয়াই নয়, হাত শিবিরের গড়ে দাঁড়িয়ে খোদ কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে প্রত্যাঘাতও করেছেন তিনি। তার নিশানা থেকে বাদ যাননি মালদহ দক্ষিণের কংগ্রেস প্রার্থী আবু হাসেম খান চৌধুরী, যিনি ডালুবাবু নামেও পরিচিত।

কয়েক দিন আগে চাঁচলে জনসভা করে কংগ্রেসত্যাগী মালদহ উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী মৌসম বেনজির নুরকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেছিলেন রাহুল। এদিন মালদহের সামসি এবং পাকুয়াতে নির্বাচনী জনসভায় মমতার আর্জি, এতদিন মৌসমকে জিতিয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে। এবার জেতাতে হবে জোড়াফুল চিহ্নে। নাম না করে রাহুলের প্রতি তার কটাক্ষ, কংগ্রেসের কেউ কেউ নানাভাবে মৌসমের বিরুদ্ধে বলে বেড়াচ্ছেন। মৌসম তো বাংলার মেয়ে, বাংলার বাইরে তো যায়নি। আমার সঙ্গে এসেছে। একজন লড়াকু লোকের সঙ্গে এলে তো ভালোই হয়। তৃণমূল সুপ্রিমোর ব্যাখ্যা, সিপিএমের সঙ্গে আঁতাত করে চলার কারণে যেভাবে আমি কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিলাম, ঠিক একইভাবে বিজেপি ও সিপিএমের সঙ্গে আঁতাতের প্রতিবাদে মৌসম দল ছেড়েছে। যে যা খুশি বলুক। ঠিকই করেছে মৌসম। কংগ্রেস এখানেও আরএসএসের সঙ্গে আঁতাত করে চলছে। মৌসম মালদহের মানুষের আবেগকে চেনে। কালিয়াচকের জনসভায় মোয়াজ্জেম হোসেনকে জয়ী করার আহ্বান জানান মমতা।

তিনি নেই দীর্ঘদিন। তবুও প্রতিটি ভোটে মালদহের সেই ‘মিথ’ বরকত গনি খান চৌধুরী আবশ্যক হয়ে ওঠেন। নির্বাচনী সভায় সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মমতার প্রশ্ন, বরকতদা নেই। কিন্তু তার নাম ভাঙিয়ে আর কতদিন ভোট ভিক্ষে চলবে? একটা সীমা তো আছে। কেউ কেউ এবারও বরকতদার নাম সামনে রেখে ভোট চাইছেন। দৃশ্যত বিরক্ত তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ডালুদা’কে ভোট দিতে হবে কেন? সে শুধু নিজেকে আর ছেলেকে নিয়ে ব্যস্ত। সারাক্ষণ দিল্লিতে বসে থাকেন। মমতার আর্জি, মৌসমকে ভোট দিন। ও তো গনি পরিবারেরই। জিতলে মালদহের আরো উন্নতি হবে। মমতার আর্জি, দুটো লোকসভা আসন দিন। মোয়াজ্জেম আর মৌসমকে জেতান। বিধানসভায় আসন পাইনি, এমপিও নেই। তবুও মালদহের উন্নয়নে কোনো খামতি রাখিনি। বাকিটা যা চাইবেন, সব করে দেব।

এদিন মমতার প্রথম সভা ছিল সামসিতে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের হিসেবে, এক লাখেরও বেশি মানুষ এসেছিলেন মমতার কথা শুনতে। এমনকি মাত্রাতিরিক্ত উৎসাহের জেরে ধাক্কাধাক্কি দেখে মিনিট পাঁচেক সভা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন তিনি। ভিড়ের চাপে পিষ্ট হওয়া থেকে বাঁচাতে কিছু নারীকে মুখ্যমন্ত্রী নিজের বিশেষ নিরাপত্তা জোনে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করেন। এদিন সংখ্যালঘু ভোটার অধ্যুষিত সামসিতে ওই সভায় এনআরসি আর সিটিজেন অ্যামেন্ডমেন্ট বিলের আসল ‘ভয়’টা ব্যাখ্যা করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তেমনই আবার নরেন্দ্র মোদিকে এনআরসি’র বদলে ‘এনবিসি’ দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। কী সেই এনবিসি? মমতার ব্যাখ্যা, বিজেপির এবার বিদায়ের পালা। তাই মোদিবাবু আর তার সাঙ্গপাঙ্গদের দেব এনবিসি অর্থাৎ ন্যাশনাল বিদায় সার্টিফিকেট। এদিন তিনি মোদিকে তুলনা করেছেন বর্গিদের সঙ্গেও। প্রচলিত সেই ঘুমপাড়ানি গানের আদলে মমতার নতুন ছড়া ছেলে ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো, মোদি এলো দেশে/সবকিছু তো লুটে নিয়েছে, বাঁচব মোরা কিসে।

 

"