ব্রিটিশ এমপিদের ভোট ব্রেক্সিট পিছিয়ে দিতে

প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ব্রিটিশ এমপিরা। এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেকে আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্রেক্সিট শুরুর প্রক্রিয়া পিছিয়ে দিতে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভোটাভুটি হয়েছে। ব্রেক্সিট পিছিয়ে দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪১৩ জন এবং বিপক্ষে ২০২ জন। এর ফলে পূর্ব-পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯ মার্চ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যেতে পারবে না ব্রিটেন। কিন্তু পার্লামেন্টে পাস হয়ে গেলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশকেও মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দিতে হবে।

ফলে বেক্সিট আরো তিন মাস পিছিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ ৩০ জুনের আগে হয়তো ব্রেক্সিট শুরু হবে না। এর আগে কোনো ধরনের চুক্তি ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ব্রিটিশ এমপিরা। পার্লামেন্টের ভোটাভুটিতে ৩১২ জন সংসদ সদস্য প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন আর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩০৮ জন। এদিকে, লেবার এমপি হিলারি বেন প্রস্তাব দিয়েছিলেন, ব্রেক্সিট চুক্তি ঠিক করে দিক ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। অর্থাৎ চুক্তির প্রতিটি ধারা-উপধারা নিয়ে ভোট হোক। সেই অনুযায়ী তৈরি করা হবে চুক্তি। সেই প্রস্তাব মাত্র দুই ভোটে বাতিল হয়ে যায়।

আরো একটি প্রস্তাব ওঠেছে যে, আবারও গণভোটের আয়োজন করা হোক। কিন্তু বিরোধী নেতা জেরেমি করবিনসহ বেশির ভাগ এমপি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন চুক্তি নিয়ে আগামী সপ্তাহে তৃতীয়বারের জন্য পার্লামেন্টের মুখোমুখি হতে চান মে।

ব্রেক্সিট ইস্যু : এটি কী, কবে এবং কীভাবে কার্যকর হবে? ব্রেক্সিট কী : ‘ব্রিটিশ এক্সিট’ নামটিকে সংক্ষেপে ডাকা হচ্ছে ব্রেক্সিট নামে। এটি হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন কী : ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) হচ্ছে ২৮টি দেশের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক জোট। এই জোটের সদস্য দেশগুলো নিজেদের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য করে থাকে, এসব দেশের নাগরিকরা জোটভুক্ত যেকোন দেশে গিয়ে থাকতে ও কাজ করতে পারেন। (সদস্যদেশগুলোর নামের তালিকা এখানে দেখতে পারেন) ১৯৭৩ সালে যুক্তরাজ্য ইইউতে যোগ দেয়। তখন এটির নাম ছিল-ইইসি (ইউরোপিয়ান ইকনোমিক কমুনিটি)। ইইউ ছাড়ছে কেন যুক্তরাজ্য : ৪০ বছরের বেশি সময় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাথে থাকার পর ২০১৬ সালের ২৩ জুন একটি গণভোট নিয়েছিল যুক্তরাজ্য। সেখানে সেদেশের নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যুক্তরাজ্যের কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে থাকা উচিত নাকি উচিত না? ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে, আর থাকার পক্ষে ছিল বাকি ৪৮ শতাংশ ভোট। কিন্তু সেই ভোটের ফলাফলের সাথে সাথেই ব্রেক্সিট হয়ে যায়নি। এই বিচ্ছেদ ঘটবে আগামী ২৯ শে মার্চ।

 

"