সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার : জেলে চেলসি ম্যানিং

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাড়াজাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস সংক্রান্ত তদন্তে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় সাবেক গোয়েন্দা বিশ্লেষক চেলসি ম্যানিংকে জেলখানায় রাখার আদেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁসসহ ২০টি অভিযোগে ২০১৩ সালে ৩৫ বছরের কারাদন্ড হয়েছিল ম্যানিংয়ের; বারাক ওবামা সাজা কমালে ২০১৭ সালে ছাড়া পান তিনি। সাক্ষ্য দিতে অস্বীকার করার অপরাধে শুক্রবার ভার্জিনিয়া আদালতের বিচারক ক্লড হিলটন ৩১ বছর বয়সী নারী ম্যানিংকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

হিলটন বলেছেন, ম্যানিংয়ের মত পরিবর্তন কিংবা উইকিলিকস নিয়ে তদন্তে গ্র্যান্ড জুরিদের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাবেক এ গোয়েন্দা বিশ্লেষককে পুলিশ হেফাজতেই থাকতে হবে। ৭ লাখেরও বেশি গোপন নথি, ভিডিও ও কূটনৈতিক তারবার্তা উইকিলিকসকে সরবরাহ করার অভিযোগে ২০১০ সালে ইরাক থেকে ম্যানিংকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ম্যানিংয়ের ফাঁস করা তথ্যে অনেকের জীবন বিপন্ন হয়েছে। যদিও সাবেক এ গোয়েন্দা বিশ্লেষকের ভাষ্য, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে জনগণের মধ্যে বিতর্ক উসকে দেওয়ার লক্ষ্যেই তিনি তথ্যগুলো প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন। সামরিক আদালতের দন্ড পাওয়ার একদিনের মাথায় ব্রাডলি ম্যানিং নিজেকে নারী বলে দাবি করেন এবং বাকি জীবন চেলসি ম্যানিং নাম নিয়ে কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

কারাগারে হরমোন চিকিৎসা পাওয়ারও দাবি তুলেছিলেন ম্যানিং। পুরুষদের জন্য নির্ধারিত একটি সামরিক কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলেও খবর আসে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে।

সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা ম্যানিংয়ের সাজাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ অভিহিত করেন। অন্যদিকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ম্যানিংকে ‘অকৃতজ্ঞ বিশেষজ্ঞ’ অ্যাখ্যা দেন যার ‘কখনোই কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়া উচিত ছিল না’। মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সক্রিয় ম্যানিং সরকারি স্বচ্ছতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকার নিয়ে সরব। উইকিলিকস সংক্রান্ত তদন্তে সাক্ষ্য দেওয়া নিয়ে ম্যানিং বলেছেন, তিনি এ বিষয়ে যা যা জানেন সামরিক আদালতেই তার সব শেয়ার করেছিলেন। সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় বিচারক যে শাস্তি দেবেন, তা মেনে নেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। রায়ের আগে ম্যানিংয়ের আইনজীবী চিকিৎসাজনিত কারণে তার মক্কেলকে নিজের ঘরে অন্তরীণ করে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বিচারক সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, পুলিশই সাবেক এ গোয়েন্দা বিশ্লেষকের সব প্রয়োজন পূরণে ব্যবস্থা নেবে।

 

"