সবচেয়ে বেশি অধিকার বঞ্চিত সৌদি নারীরা

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ২০১৫ সালে প্রার্থী হয়েছিলেন নাসিমা। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ব্যালট থেকে তার নাম কেটে দেয়। নারীদের ইতিহাসবিষয়ক অধ্যাপক হাতুন। সৌদি আরবে প্রথম নারী হিসেবে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পান তিনি। লওয়াজাইন সম্প্রতি সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য একটি বেসরকারি আশ্রয়কেন্দ্রের জন্য নিবন্ধনের চেষ্টা করেন। কোনো কারণ ছাড়াই ২০১৪ সাল থেকে তিনি কারাগারে।

সৌদি আরবে যেসব নারী বর্তমানে তাদের অধিকার রক্ষার ব্যাপারে সচেতন হতে গিয়ে কারাভোগ করছেন তাদের কথা বলা হচ্ছে। বিশেষ করে নারীর অধিকার রক্ষায় ও দেশটির পুরুষশাসিত সমাজ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে তাদের জেল খাটতে হচ্ছে।

তাদের মধ্যে অন্তত ১০ জন নারী অধিকার কর্মী ও তাদের কিছু পুরুষ সমর্থকও জেলে। কারণ সৌদি আরবের রাজতন্ত্রের যে অবস্থা তার কবলে পড়েই তাদের জেল খাটতে হচ্ছে। গত ১ মার্চ সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় আইনি সংস্থা ঘোষণা দিয়েছে এসব নারীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে এবং তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে।

গত বছরের জুন থেকে নারীদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ এই অভিযান শুরু করেছে দেশটি। যখন একইসঙ্গে সৌদি সরকার নারীদের গাড়িচালক হওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। কর্তৃপক্ষ এসব নারী অধিকারকর্মীকে গেল বছরের মে মাস থেকে গ্রেফতার করা শুরু করে। সেসব নারীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের পরিবার কিংবা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করার পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা এসব নারীদের গ্রেফতার করে জেলে পুরে দেওয়া সৌদি সরকারের বর্বর মানসিকতার প্রতিফলন। এসব নারী বিরামহীনভাবে তাদের অধিকার রক্ষার বিষয়ে প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। তারা ভাবেন যদি সৌদি রাজতান্ত্রিক সরকার তাদের এমন প্রচারণার ফলে আগের অবস্থান থেকে সরে আসে তাহলে সেটা পরবর্তী সংস্কার কাজের জন্য সহজ হয়ে উঠবে।

কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ ব্যাপারটাকে দেখেছে অন্যভাবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো সৌদি আরব কোনো গণতান্ত্রিক দেশ নয়।এমন একটি রাজতান্ত্রিত ব্যবস্থা সেখানে চালু আছে যাতে করে দেশটির নেতারা মানুষের যে স্বাভাবিক অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয় না। অল্প কিছু বিষয়ে ছাড় দেওয়া হলেও তা মানুষের সর্বজনীন অধিকারের সঙ্গে তুলনা করলে অনেকটা আদিম।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে আটক নারীদের বিরুদ্ধে সৌদি আরব যেসব নির্যাতন চালায় তার বর্ণনা দিয়েছেন। তারা বলেন, সৌদি আরবের তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ গ্রেফতারকৃত এসব নারীদের অমানবিক নির্যাতন করে। অন্তত চারজন নারী অধিকারকর্মীকে ইলেকট্রিক শক, চাবুক মারা, যৌন নির্যাতনসহ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

 

"