ব্রিটেন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে ব্রেক্সিট : ট্রাম্প

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

থেরেসা মে’র ব্রেক্সিট পরিকল্পনা ব্রিটেন ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তিকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নতুন পরিকল্পনাটি ইউরোপের দিক থেকে ভালো হলেও ওয়াশিংটনের জন্য নয়। এটি কার্যকর হলে যুক্তরাজ্য সহজে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারবে না বলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এখন যদি আপনারা চুক্তিটির দিকে তাকান, তাহলে দেখবেনÑ যুক্তরাজ্য সম্ভবত আর আমাদের সঙ্গে বাণিজ্য করতে পারছে না। এটা মোটেও ভালো কিছু হবে না। যদিও আমার মনে হয় না, তারা এমন কিছু করবে। এখনকার ব্রেক্সিট পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে লন্ডন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে আলোচনার সুযোগ হারাতে পারে বলেও ধারণা তার।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ১০নং ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র অবশ্য এ শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছেন। ইউরোপ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে যেকোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করতে পারবে, মে’র পরিকল্পনায় ‘সুস্পষ্টভাবে’ এটি রয়েছে বলেও দাবি এ মুখপাত্রের। তিনি বলেন, যৌথ অংশীদার দলগুলোকে নিয়ে আমরা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি উচ্চাভিলাষী চুক্তির ভিত্তি স্থাপনে কাজ করছি, যা এখনকার (বাণিজ্যের) চেয়েও পাঁচ গুণ বড়।

ব্রিটিশ সরকারের খসড়া এ ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে হাউস অব কমন্সে সব দলের সংসদ সদস্যদের তীব্র সমালোচনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে মন্তব্য করলেন। তার এ ভাষ্য যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে মে বিরোধী অবস্থানকে আরো হাওয়া দিতে পারে বলেও ধারণা পর্যবেক্ষকদের।

মে বলেন, তার পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের জনগণকে সীমান্ত, অর্থ ও আইনের ওপর আরো নিয়ন্ত্রণ এনে দিতে ভূমিকা রাখবে। খসড়া এ পরিকল্পনা অনুযায়ীই ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ‘বিচ্ছেদ’ সংঘটিত হবে কিনা, যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্যরা ১১ ডিসেম্বরের ভোটে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

বিরোধী লেবার পার্টি, লিবারেল ডেমোক্রেট পার্টি, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডভিত্তিক ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির পাশাপাশি ক্ষমতাসীন টোরি পার্টির অনেক এমপিও পরিকল্পনাটির বিরুদ্ধে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন।

লেবার পার্টির শীর্ষ নেতা জেরমি করবিন একে ‘জোড়াতালির চুক্তি’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন। চুক্তিটি সম্পাদিত হলে তা যুক্তরাজ্যকে ‘বাজে পরিস্থিতিতে ফেলবে’ বলেও মন্তব্য তার। স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির ইয়ান ব্ল্যাকফোর্ড বলেন, মে’র ব্রেক্সিট পরিকল্পনা ‘যদি, কিন্তুতে ভরপুর’ যা স্কটল্যান্ডের জেলেদের বিরাট বিপদের মুখে ঠেলে দেবে।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা স্যার ভিন্স কেবল ও গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্য ক্যারোলিন লুকাস ব্রেক্সিট বিষয়ে নতুন করে গণভোটও চেয়েছেন। আগের গণভোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুক্তরাজ্যের আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে ২০১৯-এর ২৯ মার্চ পর্যন্ত সময় আছে।

"