ইরানের তেল বিক্রি পরিপূর্ণ বন্ধ সম্ভব নয়

ট্রাম্পের স্বীকারোক্তি

প্রকাশ : ০৯ নভেম্বর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের তেল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে আবারও স্বীকার করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তিনি এ স্বীকারোক্তি দেন।

তিনি বলেন, তেলের বাজারে অস্থিরতা ঠেকাতে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করেননি তিনি। কয়েক দিন আগেও তিনি ইরানের তেলের ওপর পরিপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ সম্ভব নয় বলে স্বীকার করেছেন। গত মে মাসে ট্রাম্প ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা থেকে অবৈধভাবে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের তেল বিক্রি শূন্যে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ইতালিসহ আটটি দেশকে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান থেকে তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে। গত সোমবার থেকে ইরানের তেল ও ব্যাংকিং খাতে দ্বিতীয় ধাপের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে ট্রাম্পের ঘোষণাকে গুরুত্ব না দিয়ে বিশ্বের অনেক দেশই ইরানের তেল কেনা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে অনেক আগেই।

ইরান থেকে তেল নেয়া শুরু করবে জাপান : ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান থেকে আবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি শুরু করবে জাপানি কোম্পানি জেএক্সটিজি হোল্ডিংস। কোম্পানির একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘উৎসের বহুমুখিতা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

এদিকে, জাপানের বাণিজ্যমন্ত্রী হিরোশিগে সেকো বলেছেন, ‘ধারণা করছি ইরান থেকে তেল কেনার বিষয়ে কয়েকটি দেশকে ছাড় দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে জাপানের কোম্পানিগুলো ইরান থেকে তেল আমদানি শুরুর প্রস্ততি নিয়ে থাকতে পারে।’ ইরান থেকে বার্ষিক যে তেল আমদানি করে জাপান তার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ নেয় জেএক্সটিজি। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা তেল নিষেধাজ্ঞা আরোপের কিছুদিন আগে অক্টোবর মাসে তেল নেয়া বন্ধ করে দেয়। গত ৫ নভেম্বর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে তেল নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে আমেরিকা কিন্তু চীন, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ইতালি, গ্রিস ও ইতালিকে ছয় মাসের জন্য ইরান থেকে তেল আমদানির সুযোগ দিয়েছে। এরপর জাপানের জেএক্সটিজি কোম্পানি ইরান থেকে তেল নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। ইরানের অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হচ্ছে জাপান।

সেপ্টেম্বর মাসে জাপান তার মোট চাহিদার শতকরা পাঁচ ভাগ অপরিশোধিত তেল ইরান থেকে নিয়েছে।

"