মিসরের শীর্ষ জঙ্গি নেতা আশমাওয়ি লিবিয়ায় আটক

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর শহর দারনায় অভিযান চালিয়ে মিসরের শীর্ষ ফেরারি এক জঙ্গি নেতাকে আটক করেছে পূর্ব লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী। মিসর সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সের সাবেক কর্মকর্তা হিশাম আল আশমাওয়িকে সোমবার মিসর-লিবিয়া সীমান্ত থেকে ২৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমের ওই শহরটি থেকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) মুখপাত্র আহমেদ মিসমারি। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

মিসরে অনেকগুলো প্রাণঘাতী হামলা ও রাষ্ট্রের এক শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর হামলা চেষ্টার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল মিসরের কর্তৃপক্ষ। আটকের সময় আশমাওয়ির শরীরে আত্মঘাতী ভেস্টা বাঁধা ছিল বলে জানিয়েছে এলএনএ; লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা এই বাহিনীটিরই নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

এলএনএ বলেছে, দারনা শহরের আল-মাগার এলাকা থেকে সন্ত্রাসী আশমাওয়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারের সময় তার পরনে আত্মঘাতী ভেস্ট থাকলেও বিস্ফোরণ ঘটাতে পারেনি।

লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীর তদন্ত শেষ হলে আশমাওয়িকে মিসরীয় কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হতে পারে বলে জানিয়েছে তারা। আশমাওয়ির আটকের বিষয়টি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে মিসরীয় সামরিক বাহিনীর একটি সূত্র, তবে বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি।

২০১৪ সালে লিবীয় সীমান্তের কাছে জঙ্গিদের হামলায় মিসরীয় সামরিক বাহিনীর ২২ সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছিল। ওই হামলা ও মিসরে হওয়া আরো কয়েকটি প্রাণঘাতী জঙ্গি হামলার জন্য আশমাওয়িকে দায়ী করে তার অনুপস্থিতেই তাকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছিলেন মিসরের এক আদালত। ২০১১ সালে একনায়ক মুয়াম্মাম গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়াজুড়ে অস্থিরতা বিরাজ করছে। তথাকথিত আরব বসন্তের মাধ্যমে শুরু হওয়া আন্দোলন ও পরবর্তীতে সশস্ত্র বিদ্রোহের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন গাদ্দাফি। পরে বিদ্রোহীরা তাকে আটক করে হত্যা করে।

 

তারপর থেকে লিবিয়ার বিভিন্ন অংশের নিয়ন্ত্রণ বিভিন্ন বাহিনীর হাতে চলে যায়। এখন রাজধানী ত্রিপোলি ও এর আশপাশের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে জাতিসংঘ সমর্থিত লিবীয় সরকার। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী এলএনএ দেশটির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর বেনগাজিসহ পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। সামরিকভাবে শক্তিশালী খলিফা হাফতার এই বাহিনীটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

জুন মাসে এলএনএ জানিয়েছিল, তারা জঙ্গিদের হটিয়ে দারনার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে, তবে বিক্ষিপ্ত কিছু প্রতিরোধের মুখোমুখি হচ্ছে। এলএনএর সঙ্গে মিসরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। জঙ্গি নিয়ন্ত্রিত দারনায় বিমান হামলাও চালিয়েছিল দেশটি। মিসরে সক্রিয় জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পর্কিত জিহাদিদের আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছিল তারা।

"