মেক্সিকোর গ্রেফতার দম্পতি ‘২০ জনকে হত্যা করেছে’

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মেক্সিকোতে শিশুদের বহনকারী ঠেলাগাড়িতে (প্রাম) করে মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রেফতার দম্পতি অন্তত ১০টি হত্যায় জড়িত, এমন সন্দেহে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

গ্রেফতারের পর আদালতে শুনানিকালে পুরুষ ব্যক্তিটি মেক্সিকো সিটির শহরতলী এলাকায় ২০ নারীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। খবর বিবিসি। তদন্তকারীরা ওই দম্পতির ফ্ল্যাট ও নিকটবর্তী আরেকটি স্থাপনা থেকে মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ উদ্ধার করেছে। অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো একটি বালতিতে সিমেন্ট দিয়ে ঢাকা ও ফ্রিজে রাখা ছিল। সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, এই দম্পতি মানবদেহের অঙ্গ বিক্রি করতেন, কিন্তু কার কাছে বিক্রি করতেন তা পরিষ্কার নয়।

ফেমিসাইডস বা নারীহত্যা মেক্সিকোর নিয়মিত ঘটনা। প্রায়ই এসব ঘটনার কোনো বিচার হয় না। কিন্তু ভয়ংকর এ মামলার বিস্তারিত প্রকাশ পাওয়ার পর মেক্সিকো সিটির শহরতলী একাতেপেকজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে, বিক্ষুব্ধরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছে। রাজধানী শহরের এই দরিদ্র এলাকাটিতেই ওই খুনের ঘটনাগুলো ঘটেছে।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ওই দম্পতিকে প্রায় সময়ই প্রাম ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা যেত। এই প্রাম থেকেই মানবদেহের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেপ্টেম্বরে ২৮ বছর বয়সী স্থানীয় নারী ন্যান্সি হুইত্রোন ও তার দুই মাস বয়সী শিশু ভ্যালেন্তিনা নিখোঁজ হওয়ার পর পুলিশ তদন্তে নামে। একপর্যায়ে প্রাম ঠেলে নিয়ে যাওয়া এই দম্পতিকে থামিয়ে তাদের তল্লাশিকালে প্রামে মানবদেহের ?অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাওয়া যায়। শুনানিকালে ওই অভিযুক্ত হুইত্রোনসহ ২৩ ও ২৯ বছর বয়সী আরও দুই নারীকে হত্যার কথাও স্বীকার করেন।

কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, কিছু নারীকে হত্যার আগে তাদের যৌন নির্যাতন করেছেন বলে স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত, হত্যার পর ওই নারীদের জিনিসপত্র ও কিছু অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিক্রি করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। এই তিন নারীর সবাই সিঙ্গেল মাদার ছিলেন এবং সম্প্রতি নিখোঁজ হয়েছিলেন।

৬ সেপ্টেম্বর বড় দুই কন্যাকে স্কুলে ছেড়ে আসার পর হুইত্রোন তার বাচ্চাসহ নিখোঁজ হন। হুইত্রোন স্কুল থেকে ওই দুই মেয়েকে আনতে না যাওয়ায় প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ শিশু ভ্যালেন্তিনাকে খুঁজে পায়। তাকে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। উদ্ধারের পর ভ্যালেন্তিনাকে তার নানীর হেফাজতে দেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, হুইত্রোন অভিযুক্ত হুয়ান কার্লোস ও তার সঙ্গী প্যাত্রিশিয়াকে চিনতেন, তাদের কাছ থেকে কাপড় ও খাবার কিনতেন তিনি। ঘটনার দিন প্যাত্রিশিয়া হুইত্রোনকে তাদের ফ্ল্যাটে অনেক প্যু আছে বলে জানান এবং সেগুলো দেখতে ফ্ল্যাটে যাওয়ার কথা বলেন। ওই ফ্ল্যাটে যাওয়ার পর হত্যাকান্ডের শিকার হন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারের পর হুয়ান কার্লোস পুলিশকে জিজ্ঞেস করেন তিনি গোসল করে একটি স্যুট পরে তিনি পারবেন কি না, কারণ তাকে গণমাধ্যমের ক্যামেরার সামনের দিয়ে যেতে হবে এবং তিনি ‘ডার্টি ক্রিমিনাল’ নন। মেক্সিকোর মধ্যে মেক্সিকো স্টেটে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে এই রাজ্যের ৩৯৫ জন লোক নিখোঁজ হয়েছেন, এদের মধ্যে ২০৭ জন নারী।

"