‘ইরানবিরোধী’ মার্কিন কর্মকর্তাদের হারানোর সংকল্প রুহানির

প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা ইরান সামলে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের যেকোনো চক্রান্ত তার সরকার ব্যর্থ করে দেবে বলে মঙ্গলবার ইরানি পার্লামেন্টের এক অধিবেশনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ইরানের দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বাড়তে থাকা বেকারত্বের বিষয়ে জবাবদিহি করার জন্য ওইদিন প্রথমবারের মতো রুহানিকে ডেকে পাঠিয়েছিল পার্লামেন্ট। পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে রুহানি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পর থেকেই সমস্যাগুলো দেখা দিয়েছে।

কয়েক বছর আগে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রসহ ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে ইরানের একটি চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করেছিল আর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বশক্তিগুলো তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো তুলে নিয়েছিল।

কিন্তু ওই চুক্তির বিরোধী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের মে মাসে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন। আগস্টে ইরানের সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু রফতানির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ইরানের গাড়িশিল্প ও মার্কিন ডলার কেনার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন। নভেম্বরে ইরানের তেল রফতানির ওপরও নতুন আরেকটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

এ পরিস্থিতি সামনে রেখে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে রুহানি বলেন, ‘আমি ইরানি জাতিকে এই বলে আশ্বস্ত করতে চাই যে, আমরা এই ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চক্রান্তকে সফল হতে দেব না। হোয়াইট হাউসের ওই একগুচ্ছ ইরানবিরোধীকে আমাদের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে দেব না আমরা।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আমেরিকা বা অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে ভীত না। আমরা এই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠব।’

২০১৫ সালে বিশ্বশক্তিগুলোর সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করে পশ্চিমাদের সঙ্গে বিদ্যমান উত্তেজনা হ্রাস করতে সক্ষম হয়েছিলেন রুহানি। কিন্তু এখন ওয়াশিংটন ওই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ায় ইরানের কট্টরপন্থিদের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি। পার্লামেন্টের কট্টরপন্থিরা ট্রাম্পের পদক্ষেপ ও জনঅসন্তোষ হ্রাসের লক্ষ্যে রুহানির অর্থনীতিবিষয়ক টিমকে ঢেলে সাজানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

"