শরণার্থী নীতিকে কেন্দ্র করে জার্মানিতে আবার সংঘাত

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৬৯ বছরের জন্মদিনে ৬৯ জন আফগান শরণার্থীকে ফেরত পাঠাতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেন ‘বিদ্রোহী’ জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফার। মঙ্গলবার তিনি সরকারকে অগ্রাহ্য করে নিজস্ব ‘মাস্টার প্ল্যান’ প্রকাশ করলেন।

জোট সরকারে থেকেও বিদ্রোহের প্রবণতা ছাড়ছেন না জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাভেরিয়ার সিএসইউ দলের নেতা হর্স্ট সেহোফার। সরাসরি চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মার্কেলকে চ্যালেঞ্জ করে সরকার ও রক্ষণশীল শিবিরের অস্তিত্ব বিপন্ন করেছিলেন তিনি। অবশেষে সিডিইউ ও এসপিডি দলের সঙ্গে রফার মাধ্যমে সেই সংকট দূর হয়েছিল। মঙ্গলবার আবার নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করলেন তিনি। অবৈধ শরণার্থীদের সমস্যা সামলাতে নিজস্ব এক ‘মাস্টার প্ল্যান’ প্রকাশ করলেন তিনি। তাতে মোট ৬৩টি বিষয় স্থান পেয়েছে। সীমান্তে আরো কড়াকড়ি, অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত শরণার্থীদের প্রতি আরো কড়া মনোভাব, শরণার্থী-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া আরো দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ, ইইউ দেশগুলিতে নথিভুক্ত শরণার্থীদের আগমন কমানোর মতো একাধিক পদক্ষেপের উল্লেখ রয়েছে এই খসড়ায়।

নিজের ৬৯তম জন্মদিনে ৬৯ জন আফগান শরণার্থীকে ফেরত পাঠিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সেহোফার। তবে আফগান কর্তৃপক্ষ এমন পদক্ষেপের ফলে বিরক্তি প্রকাশ করেছে বলে জানা গেছে। গত ৪ জুলাই এই পরিকল্পনার খসড়া প্রস্তুত হলেও শুরু থেকেই গোপনীয়তার বেড়াজালে সেটি আগলে রেখেছিলেন সেহোফার। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সরকারি জোটের ৩ শরিক দলের মধ্যে এ বিষয়ে সর্বশেষ বোঝাপড়ার প্রতিফলন ঘটেনি তার এই খসড়ায়।

বিশেষ করে এসপিডি দলের সঙ্গে সংঘাত অনিবার্য। অর্থাৎ বিদ্রোহের নতুন বীজ বুনে আবার সরকারের মধ্যে সংকট সৃষ্টি করতে প্রস্তুত সেহোফার। তার এই মনোভাবের বিরুদ্ধে জার্মানির একাধিক নেতা সোচ্চার হলেও চ্যান্সেলর মার্কেল, তথা জোট সরকার এখনো এ বিষয়ে নীরব রয়েছে। বাভেরিয়ায় রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিএসইউ নেতা হিসেবে নিজস্ব ভাবমূর্তির উন্নতি করতে সেহোফার একদিকে তর্জন-গর্জন চালিয়ে গেলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে তাকে ইউরোপের দেশগুলির সঙ্গে রফায় আসতে হবে। বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার ইন্সব্রুক শহরে ইইউ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে যোগ দেবার আগে বুধবারই তিনি ইটালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাটেও সালভিনির সঙ্গে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, ইটালি সে দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করা শরণার্থীদের জার্মানি থেকে ফেরত নিতে অস্বীকার করে চলেছে। অথচ, চরম দক্ষিণপন্থি নেতা সালভিনির কাছ থেকে এ ক্ষেত্রে ছাড় আদায় করতে না পারলে সেহোফারের নিজস্ব পরিকল্পনা প্রশ্নের মুখে পড়বে।

চলতি মাসের শেষেই তিনি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জার্মানির দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শেষ করতে চান। তার মতে, ইউরোপীয় স্তরে এ বিষয়ে ঐক্য সম্ভব না হলে জাতীয় সমাধানসূত্রের পথে অগ্রসর হওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

"