জি-সেভেনের বিপরীতে চীনের সম্মেলন

প্রকাশ : ১১ জুন ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন বাণিজ্যনীতি ও ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়া যাওয়া নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে আঞ্চলিক নেতাদের সম্মেলনে বসেছে চীন। উপকূলীয় শহর কিনদাওতে শনিবার শুরু হওয়া দুই দিনের এই সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করেছে চীন ও রাশিয়া। আট জাতির সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) এ সম্মেলনে ইরান, ভারত, পাকিস্তান ছাড়াও উপস্থিত রয়েছে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের চার দেশ কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান ও তাজিকিস্তানের প্রতিনিধিরা।

সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন, পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেইন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। শনিবার সম্মেলনের উদ্বোধনী ঘোষণা করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। উদ্বোধনী ভাষণে তিনি বলেন, এসসিও সম্প্রসারণের পর রোববার আমরা প্রথম সম্মেলনে মিলিত হব। আর এর ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করব।

তিনি বলেন, কিনদাও সম্মেলন আমাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার কেন্দ্র। সাংহাইয়ের উদ্দীপনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা একসঙ্গে স্রোত ভেঙে এগিয়ে যাব আর আমাদের সংগঠনের নতুন দিগন্তের সূচনা করব।

এসসিও সম্মেলনে মূলত বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়নগত সহায়তার ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠকে চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা হবে। চীনের প্রস্তাবিত এই রাস্তাটি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাসহ বিশ্বের মোট ৬০টি দেশের ওপর দিয়ে যাবে। ২০১৫ সালে তেহরানের সঙ্গে ছয় বিশ্বশক্তির স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে ওয়াশিংটনের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর এসসিও বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পর তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের উত্তেজনা চলছে। ইউরোপীয় দেশগুলো ওই চুক্তি বহাল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়াকে অবৈধ বলে মন্তব্য করেন। তিনি রাশিয়ার সঙ্গে এই বিষয়ে আরো আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন।

কিনদাও বৈঠকের আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে এক পার্শ্ববৈঠকে রুহানি বলেন, পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা আমাদের দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার দিকে ধাবিত করেছে। পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মেক্সিকো ও কানাডা থেকে ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়াম আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন।

"