সিরিয়ার বিরুদ্ধে ‘সামরিক পদক্ষেপ’ যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করল রাশিয়া

প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সিরিয়ার দৌমায় কথিত রাসায়নিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘে রাশিয়ার দূত ভ্যাসিলি নিবয়েনজিয়া বলেছেন, ‘আমি আবারও অনুরোধ করছি, আপনারা যে পরিকল্পনা আটছেন তা থেকে বিরত থাকুন।’ যুক্তরাষ্ট্র কোনো ‘অবৈধ সামরিক অভিযান’ চালালে ওয়াশিংটনকে তার ‘দায়িত্ব বহন’ করতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। অন্যদিকে পশ্চিমা নেতারা বলেছেন, সিরিয়ায় দৌমায় হামলার জন্য দায়ীদের লক্ষ্যস্থল করতে তারা একযোগে কাজ করার বিষয়ে সহমত হয়েছেন।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, কোনো হামলা চালানো হলে তা সিরীয় সরকারের রাসায়নিক স্থাপনাগুলোর ওপর চালানো হবে। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কথিত রাসায়নিক হামলা নিয়ে এক বৈঠকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ওই সতর্ক বার্তাটি আসে বলে জানিয়েছে বিবিসি। বৈঠকে কথিত হামলা নিয়ে নতুন তদন্ত শুরু করার একটি প্রস্তাব রাশিয়ার ভিটোর মুখে বাতিল হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি করা প্রস্তাবটিতে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ভেটো দেয় ও অন্য স্থায়ী সদস্য চীন ভোটদানে বিরত থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিপরীতে বৈঠকে রাশিয়ার তোলা একটি প্রস্তাবও প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়ায় বাতিল হয়। পূর্ব ঘৌতার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর দৌমায় সন্দেহভাজন রাসায়নিক হামলাটি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের সরকার চালিয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে তার স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছিল। যার দিকে অভিযোগের তীর সেই সিরিয়া সরকার কোনো রাসায়নিক হামলা চালানোর কথা অস্বীকার করেছে।

নিষিদ্ধ ঘোষিত অস্ত্র দৌমায় ব্যবহৃত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যেই’ অর্গানাইজেশন ফর দ্য প্রহিবিশন অব কেমিক্যাল উইপন (ওপিসিডব্লিউ) এর একটি টিম দৌমায় মোতায়েন করা হচ্ছে; কিন্তু কারা এর জন্য দায়ী তা নির্ধারণ করবে না তারা। নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সিরিয়ায় পশ্চিমা শক্তিগুলোর সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে কঠোর কথা চালাচালি হয়েছে।

‘প্রস্তাবকে ভিত্তি করে’ যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়ার ‘অজুহাত’ খুঁজছে বলে অভিযোগ করেছেন নিবয়েনজিয়া। সিরিয়ায় সামরিক হামলা হলে সবাই ‘খুব দুঃখজনক ও গুরুতর ঘটনার’ মুখোমুখি হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিষদের ভোটকে ‘হাস্যকর’ উল্লেখ করে রাশিয়া পরিষদের ‘বিশ্বাসযোগ্যতাকে ছাই-ভস্মে পরিণত’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দূত নিকি হ্যালি।

সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে ‘অংশ নিতে পারে সৌদি আরব’ : দৌমায় কথিত রাসায়নিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তাতে সৌদি আরব যোগ দিতে পারে বলে জানিয়েছেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। গত মঙ্গলবার প্যারিসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে। রয়টার্স।

তিন দিনের এক সফরে তখন প্যারিসে ছিলেন মোহাম্মদ। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক সংলগ্ন পূর্ব ঘৌতা অঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত দৌমা শহরে শনিবার রাসায়নিক হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করে বিদ্রোহী গোষ্ঠী জইশ আল ইসলাম। হামলায় অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করে ওই এলাকায় চিকিৎসা ত্রাণের সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীগুলো।

আদৌ এ ধরনের কোনো হামলা হয়েছে কিনা, হয়ে থাকলে কারা চালিয়েছে- এসব বিষয় নিশ্চিত না হলেও এ হামলার প্রতিক্রিয়ায় জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সিরিয়ায় ‘সামরিকভাবে বেছে নেওয়ার মতো অনেক বিকল্প’ যুক্তরাষ্ট্রের আছে, তার এমন মন্তব্যের পর সিরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা শক্তিগুলো শিগগিরই সামরিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে এমন ধারণা তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে যুবরাজ মোহাম্মদ বলেছেন, ‘আমাদের জোটের অংশীদাররা যদি প্রয়োজনীয় মনে করে, আমরা উপস্থিত থাকব। সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্রের হামলার জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করার জন্য কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে তা নিয়ে অনেক দেশই পরামর্শ করছে বলে এর আগে জানিয়েছিলেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল জুবেইর। তিনি বলেছেন, আমাদের অবস্থান হচ্ছে, যারা এর জন্য দায়ী তাদের জবাবদিহিতার মুখোমুখি করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

সৌদি আরব এ ধরনের পদক্ষেপের অংশ হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাব তখন এড়িয়ে গিয়েছিলেন সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

"