অবৈধ শিকার

ঘুষ সেধে বিপাকে ইতাল-থাই প্রেসিডেন্ট

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৮, ০০:০০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

থাইল্যান্ডের প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের প্রেসিডেন্ট প্রেমচাই কর্ণসূত্রের বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বনে অবৈধ শিকার এবং ধরা পড়ার পর ছেড়ে দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের ঘুষ সাধার অভিযোগ আনা হচ্ছে। থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, এই অভিযোগের মধ্যেই শনিবার প্রাইভেট জেট নিয়ে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে আবাসন খাতের এই টাইকুনের। থাই রয়্যাল পুলিশের ডেপুটি কমান্ডার জেনারেল শ্রিভারা রাংসিপ্রামণাকুলের বরাত দিয়ে ব্যাংকক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সংরক্ষিত বনে বিরল প্রজাতির প্রাণী হত্যা, অস্ত্র আইন লঙ্ঘন, অবৈধভাবে নিজের সংগ্রহে হাতির দাঁত রাখা ও তদন্ত কর্মকর্তাদের ঘুষ সাধাসহ ১২ দফা অভিযোগ আনা হচ্ছে প্রেমচাই কর্ণসূত্রসহ চারজনের বিরুদ্ধে।

আগামী ১৪ মার্চ আনুষ্ঠনিকভাবে অভিযোগ উত্থাপনের দিনে জামিনে থাকা প্রেমচাই কর্ণসূত্রকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়েছে। ৬৩ বছর বয়সী প্রেমচাই ও তার তিন সহযোগীকে গত ৪ ফেব্রুয়ারি থাং ইয়াই নারেসুয়ান ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারিতে তাদের ক্যাম্প থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের কাছে পাওয়া যায় তিনটি রাইফেল ও ১৪৩টি ?গুলিসহ শিকারের বিভিন্ন সরঞ্জাম। বন কর্মকর্তাদের অভিযোগ, ইতাল-থাই প্রেসিডেন্ট ও তার সহযোগীরা বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ওই বনে দুর্লভ কালো চিতা মেরে ভুরিভোজ করেছেন।

এসব বেআইনি কাজের প্রমাণও তারা ওই বন থেকে সংগ্রহ করেছেন। নারেসুয়ান ওয়াইল্ডলাইফ স্যাংচুয়ারির দায়িত্বে থাকা থাই বন কর্মকর্তা ভিশিয়ান চিন্নাবং পুলিশকে বলছেন, গ্রেফতার হওয়ার পর প্রেমচাই সবার সামনেই তাকে ঘুষ সেধে বলেন, ছেড়ে দিলে যা চাওয়া হবে, তাই তিনি দেবেন।

দুদিন কারাগারে থাকার পর জামিন পান নির্মাণ ঠিকাদারি করে সম্পদের পাহাড় গড়া প্রেমচাই। তবে তার শিকারকা-ের খবর থাইল্যান্ডে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে; ব্যাংককে তার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভও হয়। ব্যাংকক পোস্ট লিখেছে, জামিনে থাকা ইতাল-থাই প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে তার বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনার কথা পুলিশকে জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে শনিবার এসে তিনি রোববার ফিরে যাবেন। এ বিষয়ে থাই সাংবাদিকদের প্রশ্নে পুলিশ কর্মকর্তা শ্রিভারা রাংসিপ্রামণাকুল বলেছেন, প্রেমচাইয়ের বিদেশ সফরে আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তাছাড়া শুনানির তারিখ পেছানোর আবেদনও তিনি করতে পারেন। তবে যাই ঘটুক না কেন, ১৪ মার্চ তাকে পুলিশের কাছে হাজিরা দিতে হবে।

"