বোল্টের সুইং বনাম মালিঙ্গার বৈচিত্র্য

ম্যাক্সওয়েল-রশিদের ধ্রুপদী লড়াই

প্রকাশ : ০১ জুন ২০১৯, ০০:০০

সাহিদ রহমান অরিন

‘বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সামনে পুচকে আফগানিস্তান। এ ম্যাচ দেখে সময় নষ্টের চেয়ে চল ঈদ শপিংয়ে যাই।’ অজি-আফগান ম্যাচটা আজ থেকে বছর তিনেক আগে হলে এক বন্ধু হয়তো আরেক বন্দুকে এই কথাগুলোই বলতেন। কিন্তু তিনটি ক্যালেন্ডার পাল্টানোর পাশাপাশি যে আফগান দলটাও আমুল পাল্টে গেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিকে আর খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।

সম্প্রতি সাবেক কিউই অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম জোর গলায় বলেই দিয়েছেন, ‘এইবার বাংলাদেশের চেয়ে বেশি ম্যাচ জিতবে আফগানিস্তান।’ স্থানীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একাধিক অজি কিংবদন্তি জানিয়েছেন, ‘দ্বাদশ বিশ্বকাপে চমক দেখাবে আফগানিস্তান।’

সাবেকদের পাশাপাশি বর্তমানরাও এ ম্যাচ নিয়ে মুখ নাড়িয়েছেন। আফগানদের পোস্টারবয় হয়ে উঠা রশিদ খান প্রস্তুতি ম্যাচের আগের দিন হুঙ্কার ছেড়েছিলেন, ‘প্রতিপক্ষের জন্য আফগানিস্তান কতটা ভয়ংকর, সেটা বিশ্বকাপেই দেখবে সবাই।’ এমন দাম্ভিকতার পরদিনই পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়েছিল আফগানরা। যদিও শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে বাজেভাবে হেরেছিল তারা। তবে ওই ম্যাচের কথা নাকি ভুলে গেছে ফিল সিমন্স শিষ্যরা।

কথায় আছে, সকালে সূর্য দেখে নাকি বোঝা যায় দিনটা কেমন যাবে। তবে ক্রিকেটের ক্ষেত্রে অন্তত এই কথার খাতিরে ‘প্রস্তুতি ম্যাচ দেখেই বোঝা যায় মূল মঞ্চে কেমন করবে’ এই বাক্যটাকে মেলানো যায় না। তাই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া আর র‌্যাঙ্কিংয়ের দশে থাকা আফগানিস্তানের ম্যাচটিকে কাগজে-কলমে যতই ‘অসম লড়াই’ বলা হোক না কেন, বাস্তবে স্মিথ-ওয়ার্নারদের কঠিন পরীক্ষা নেবেন রশিদ-নবীরা।

রশিদ অবশ্য গর্জে উঠলেও এ ম্যাচে ফেভারিট হয়েও নরম সুরে কথা বলেছেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। নিজের বিশ্বকাপ ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে শুরুতে রশিদের নামটাই নিয়েছেন এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার। তার ভাষ্য, ‘আমাদের মাথাব্যথার কারণ হতে পারে রশিদ। তাকে ঠিকঠাক মোকাবিলা করতে না পারলে সাজঘরে ফিরে কপাল চাপড়াতে হবে সবার।’ তবে রহস্যময় লেগ স্পিনারকে সামলাতে বেশ আত্মবিশ্বাসী দ্য বিগ শো, ‘গেল বিগ ব্যাশে তাকে আমি বেশ কবার মোকাবিলা করেছি। এটা ঠিক যে, তার বলে খুব বেশি রান তুলতে পারিনি। তবে সেও আমাকে একবারও আউট করতে পারেনি।’

স্পিন টুইন নাথান লায়ন ও অ্যাডাম জ্যাম্পার কোনো একজনের বাজে দিন কাটলে বল হাতে তুলে নিতে হতে পারে ম্যাক্সওয়েলকেও। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি হাত ঘোরানোর দায়িত্ব সামলাতেও প্রস্তুত তিনি, ‘এবার আমি ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে ফিল্ডিং সাজাব। উইকেট নেওয়ার চেয়ে রান আটকানোতেই বেশি চেষ্টা থাকবে আমার।’

এদিকে, কার্ডিফের সোফিয়া গার্ডেন্সে দিনের প্রথম ম্যাচে মাঠে নামছে ১৯৯৬-এর চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা ও গেলবারের ফাইনালিস্ট নিউজিল্যান্ড। জিততে ভুলে যাওয়া লঙ্কানদের বিপক্ষে আজ ‘ক্লিয়ার ফেভারিট’ হয়েই খেলতে নামবে কিউইরা। এ ম্যাচে ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি থাকবে দুই পেস তারকা লাসিথ মালিঙ্গা ও ট্রেন্ট বোল্টের দিকে। সদ্য আইপিএল জিতে বিশ্বকাপের ভূমিতে পা রেখেছেন মালিঙ্গা। তবে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ না নিলেও নিজেকে মূল ম্যাচগুলোর জন্যই বিশ্রামে রেখেছিলেন ‘টো ক্রাশার’। কম যাবেন না ট্রেন্ট বোল্টও। আইপিএলে যে কটা ম্যাচে সুযোগ পেয়েছিলেন, সেখানে নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে না পারলেও দুই প্রস্তুতি ম্যাচে পুরোনো বজ্র বিদ্যুৎ হয়ে ফিরেছেন তিনি। সুইংয়ের গোলা ফেলে ওই ম্যাচে নিয়েছেন ৮ উইকেট। সব মিলিয়ে আজ একজোড়া রোমাঞ্চকর ম্যাচেরই প্রত্যাশা করছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কোন দল মূল্যবান দুটি পয়েন্ট তুলে নেবে, সে প্রশ্ন না হয় সময়ের হাতেই ছেড়ে দিলাম।

"