গান গাইতে পারে প্রোটিন!

প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৭, ০০:০০

হরেকরকম ডেস্ক

গান গাইতে পারে প্রোটিনও! রং-বেরঙের তালে, ছন্দে, সুরে। রামধনুর নানা রঙের নানা রাগে, অনুরাগে। ‘গানে মোর কোন ইন্দ্রধনু’ তার অন্তরে-অন্দরে লুকিয়ে রয়েছে, গানে গানেই তার ছবি এঁকে দিতে পারে প্রোটিন। দোলা দিতে পারে আমাদের- নাচের তালে তালে, মুদ্রার বৈচিত্র্যে, শরীরী বিভঙ্গের তারতম্যে। রাগের ‘বসন্ত’ অন্য পথ ধরে ‘খাম্বাজ’-এর সঙ্গে তার বনিবনা হয় না বলে, প্রোটিনও তেমনই রামধনুর নানা রঙের নানা তালে নানা ছন্দে, সুরে, রাগে বুঝিয়ে দিতে পারে তার চেহারাটা কেমন, ভারী না হাল্কা, নিজেকে সে কী ভাবে সাজিয়েছে, তার অঙ্গসজ্জার ধরনধারণ।

প্রোটিনের গান গাওয়ার সেই চমকে দেওয়া গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নাল ‘হেলিয়ন’-এ। যার শিরোনাম-‘মেলোডি ডিসক্রিমিনেশন অ্যান্ড প্রোটিন ফোল্ড ক্লাসিফিকেশন’। মূল গবেষক ব্রিটেনের ফ্রান্সিস ক্রিক ইনস্টিটিউটের বায়োইনফর্মেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক রবার্ট বাইওয়াটার ও আমেরিকার ইস্টার্ন ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিশেষজ্ঞ, মিউজিক কম্পোজার জোনাথন মিডলটন।

নানা প্রোটিনের নানা রঙের সুর, তাল, ছন্দ, রাগের পরতে পরতে জড়ানো গানের সেতু ধরে অনেক জটিল অসুখের নতুন নতুন ওষুধ আবিষ্কারের কাজটাও এর ফলে কিছুটা সহজ হয়ে গেল বলে প্রোটিন গবেষকদের অনেকেই মনে করছেন। তাই প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিশ্বে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে গবেষণাপত্রটি।

আমাদের শরীরে প্রোটিন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ যে, তাদের গান শোনার দরকার হলো গবেষকদের? আমাদের শরীরের যেমন কার্বোহাইড্রেট লাগে, ফ্যাট লাগে, তেমনই লাগে প্রোটিন। যা আদতে একটি জৈব যৌগ (অরগ্যানিক কম্পাউন্ড)। কিন্তু যেটা অনেকেরই জানা নেই, তা হলো-আমাদের শরীরের বিভিন্ন কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে প্রোটিনই।

প্রোটিন অনেক সময়েই আমাদের বন্ধু হয়। ঠিকঠাকভাবে শারীরিক কার্যকলাপকে চালিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করে। তা সে স্নায়ুতন্ত্র বা নার্ভাস সিস্টেমকে চালানোই হোক বা শরীরে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়ার হানাদারি রোখা, সব কাজই আদতে করে প্রোটিন। আর আলাদা আলাদাভাবে সেই প্রোটিনগুলোকে ‘রিমোট কন্ট্রোলে’ চালায় আমাদের শরীরের আলাদা আলাদা জিন। কোনো ওযুধকে শরীরে তার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দিতেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয় প্রোটিন। আবার কখনো কখনো করে উল্টো কাজটাও। কোনো ওষুধকে শরীরে তার টার্গেটে পৌঁছতে দেয় না। এমন বহু দৃষ্টান্ত আছে, যেখানে প্রোটিনই হয়ে ওঠে ‘ঘরশত্রু বিভীষণ’! প্রোটিনই পারে কোনো ওষুধকে অকেজো করে দিতে। পারে তাকে নির্বিষ করে দিতে। কখনো কখনো প্রোটিনই ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়াদের সামনে দরজাটা হাট করে খুলে দেয় হানাদারি চালানোর জন্য!

কিন্তু প্রোটিনের গাওয়া গানের ‘ফার্স্ট হিয়ারিং’-এ ভুলভ্রান্তির সম্ভাবনাটা কমই থাকে। কারণ, তাদের চেহারা (ফোল্ড) আলাদা হলেই, সাজসজ্জা (গঠনসজ্জা বা স্ট্রাকচার) আলাদা হলেই তারা গান গায় আলাদা আলাদা সুরে। আলাদা আলাদা তালে, ছন্দে। আলাদা আলাদা রাগে। এমনকি, শরীরে তারা কোন রাসায়নিক, উৎসেচক (এনজাইম) বা অন্য কোনো মৌল/যৌগের সঙ্গে কতটা ভাব-ভালোবাসার সম্পর্কে জড়াবে (বিক্রিয়া) বা আদৌ জড়াবে কি না, শরীরের ভেতরের কোন রাসায়নিকের সঙ্গে তার সম্পর্কটা মাখোমাখো হবে বা হবে না, শত্রুদের সঙ্গে লড়ার জন্য কোন ওষুধকে সে কতটা কাজ করতে দেবে বা দেবে না, প্রোটিনদের গাওয়া বিভিন্ন সুরের গানের তাল, ছন্দ, রাগ শুনেই তা বুঝে ফেলা যাবে, সহজেই। এমনটাই দাবি দুই গবেষক রবার্ট বাইওয়াটার ও জোনাথন মিডলটনের।

"