স্তন ক্যানসারে পাঁচটি পরামর্শ

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৭, ০০:০০

ডা. এম এইচ সরদার

ব্রেস্ট ক্যানসার বা স্তন ক্যানসার হওয়া ঠেকানো সব সময় সম্ভব হয় না। তবে জীবনাচরণে কিছু পরিবর্তন আনলে ঝুঁকি অনেক কমানো যায়। অন্তত ক্যানসারের সূচনা যদি আগাম চিহ্নিত করা সম্ভব হয়, তখন সহজেই চিকিৎসা করা যায়। এ রকম পাঁচটি পরামর্শ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের।

১. সপ্তাহে অন্তত তিন দিন ব্যায়াম করা উচিত। বেশি হলে আরো ভালো। আর যখন ব্যায়াম করা হয় খেয়াল করতে হবে, ব্যায়ামের অন্তত ২০ মিনিট হৃদাঘাত হার যেন মূল স্পন্দন হার থেকে বেশি থাকে।

২. দেহের ওজন বজায় রাখতে হবে। কারো ওজন বেশি থাকলে কমাতে হবে। গবেষকরা দেখেছেন, শরীরে ওজন বেশি থাকলে বা স্থূল হলে, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে ঋতুবন্ধের পর ঝুঁকি অনেক বাড়ে। পূর্ণবয়স্ক অবস্থায় যে নারীর দেহ স্থূল থাকে তার ঋতু বন্ধের পর স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি হয় বেশি। ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের এমডি এন্ডারসন ক্যানসার সেন্টার এবং হুস্টনের গবেষকদের একটি গবেষণাপত্র ২০০৮ সালের মার্চে প্রকাশিত হয়, যাতে দেখানো হয়, স্থূল ও ভারি ওজনের মহিলাদের ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসার থেকে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম। এমনকি স্বাভাবিক ওজনের মহিলাদের তুলনায় এ ক্যানসারটি স্থূল মহিলাদের মধ্যে অনেক বেশি আগ্রাসী হয়।

৩. মাসে একবার নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করে দেখা উচিত। চিকিৎসকদের কাছ থেকে মহিলারা নিজের স্তন নিজে পরীক্ষা করে দেখার কৌশল জেনে নিয়ে নিয়মিত তা করা উচিত। অনেক সময় ম্যামোগ্রাম করার আগেই স্তনের গুটি অনুভব করা সম্ভব হতে পারে। দেহের মধ্যে এসব পরিবর্তন লক্ষ্য করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪. ৪০ বছর হওয়ার পর থেকে বছরে একবার ম্যামোগ্রাফি করানো উচিত নারীদের। টিউমার আগাম ধরা পড়লে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। স্তন ক্যানসার আগাম চিহ্নিত হলে এবং স্তনে সীমাবদ্ধ থাকলে পাঁচ বছর বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৯৮ শতাংশ। তবে রোগ বেশি অগ্রসর হলে এবং ছড়িয়ে পড়লে তা কমে আসে ২৭ শতাংশে।

৫. মদপানে অভ্যস্ত হলে তা বর্জন করা উচিত।

লেখক : হোমিও ও ক্যানসার চিকিৎসক সরদার হোমিও হল, গ্রীন রোড ঢাকা

"