ব্যাক পেইনে লেজার চিকিৎসা

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ০০:০০

ডা. মোহাম্মদ ইয়াকুব আলী

ব্যাক পেইন বা কোমরের ব্যথা একটি সর্বজনীন সমস্যা। সব বয়সি মানুষই নানা কারণে এ সমস্যায় ভোগে। ৮০ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো বয়সে কোমর ব্যথায় আক্রান্ত হয়। এ রোগটি অনেকের স্বাভাবিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। অনেকেই এ ব্যথার কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারেন না। দীর্ঘদিন ব্যথায় ভুগে একসময় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। সাধারণ মনে হলেও কোমরের ব্যথা নিয়ে অবহেলা করা উচিত নয়।

সাধারণত ভারী জিনিস ওঠানো, আঘাত, শরীরের বিশেষ অবস্থায় ঝাঁকি খাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে ডিস্কের স্থানচ্যুতির (প্রোল্যাপ্স) কারণে সংলগ্ন মেরুরজ্জু (স্পাইনাল কর্ড) অথবা স্নায়ুমূল (নার্ভরুট) অথবা উভয়ের ওপরই চাপ পড়তে পারে। কোমরের (লাম্বার) ডিস্ক প্রোল্যাপ্সে রোগী কোমর বা মাজায় তীব্র ব্যথা অনুভব করে। ফলে রোগী বসতে বা দাঁড়াতে

পারে না।

কোমরে উৎপন্ন স্নায়ুগুলো (নার্ভ) কোমর থেকে পা পর্যন্ত ছড়িয়ে থাকে। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে মাজা ব্যথার পাশাপাশি একপাশে বা উভয় পাশের রান, হাঁটু, হাঁটুর নিচের গোছা, গোড়ালি বা পায়ের আঙুল পর্যন্ত যেকোনো জায়গায় ব্যথা অনুভূত হতে পারে। এছাড়াও শরীরের এসব জায়গায় ঝিন ঝিন, শিন শিন করে, পায়ের বোধশক্তি কমে যায়, পর্যায়ক্রমে পা দুর্বল হয়ে যেতে থাকে এবং একপর্যায়ে রোগী হাঁটতে, দাঁড়াতে এমনকি বসতেও পারে না।

লেজার চিকিৎসা

প্রচলিত চিকিৎসা পদ্ধতিতে পিঠের চামড়া, মাংস ও হাড়ের মাঝখান দিয়ে কেটে বেরিয়ে আসা বা প্রোল্যাপসড নিউক্লিয়াস প্যালপোস্যাসের অংশটুকু তুলে এনে স্নায়ু বা স্নায়ুরজ্জুর চাপকে প্রশমিত করা হয়। এ ছাড়া নিয়মিত ফিজিওথেরাপি গ্রহণের মাধ্যমে ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। গবেষণা বা ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, পারকিউটেনিয়াস লেজার ডিস্ক ডিকম্প্রেশনের (পিএলডিডি) মাধ্যমে নির্দিষ্ট মাত্রার ও নির্দিষ্ট ধরনের লেজার রশ্মি প্রয়োগ করে অতি সহজেই নিউক্লিয়াস প্যালপোসাসের অংশবিশেষ বাষ্পায়িত করে এর অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব। ফলে স্থানচ্যুত (প্রোল্যাপ্সড) ডিস্ক আগের অবস্থায় ফিরে আসে এবং স্পাইনাল কর্ড ও নার্ভরুটের ওপর থেকে চাপ কমে রোগী স্বাভাবিক অবস্থায়

ফিরে আসে।

এ ছাড়া লেজারের অপটো-থারমো মেকানিক্যাল স্টিমুলেশনের মাধ্যমে ছিঁড়ে যাওয়া অ্যানিউলাস ফাইব্র্রোসাসের পুরো ক্ষমতা রিপেয়ার বা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ পদ্ধতিতে হাড়, মাংস ও চামড়া কাটার যেমন প্রয়োজন হয় না, তেমনি রোগীকে অজ্ঞান করারও প্রয়োজন হয় না। ফলে ডায়াবেটিস বা হৃদরোগীর ক্ষেত্রেও লেজার সার্জারিতে তেমন কোনো সমস্যা দেখা দেয় না। আর হাড়-মাংস না কাটার ফলে লেজার প্রয়োগের স্থানও দুর্বল হয় না এবং কোনো ক্ষতচিহ্নও (স্কার) থাকে না; যে কারণে ভবিষ্যতে এ অংশে স্কারের টানের কোনো ব্যথা অনুভূত হয় না।

লেখক :

লেজার সার্জারি বিশেষজ্ঞ

ইনস্টিটিউট অব লেজার সার্জারি অ্যান্ড হসপিটাল

 

"