গুলেনবারে সিনড্রোম

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৯, ০০:০০

ডা. এ এইচ মহিউদ্দিন

গুলেনবারে সিনড্রোম কী?

গুলেনবারে সিনড্রোম একটি নিউরোলজিক্যাল ডিজঅর্ডার। এতে মাংসপেশি ক্রমাগত দুর্বল হতে থাকে বা পরিণতিতে মাংসপেশির প্যারালাইসিস পর্যন্ত হতে পারে। এটা কোনো সংক্রামক ব্যাধি বা ভাইরাস ইনফেকশনজনিত কারণে হয়ে থাকে। জিবিএস স্নায়ুর প্রদাহের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নার্ভ বা স্নায়ুর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বিধায় এটিকে পলিনিউরাইটিস বা প্রদাহ সমন্বিত পলিনিউরোপ্যাথি বলা হয়ে থাকে। আসলে স্নায়ু কোষ বা নার্ভ সেল অত্যন্ত সংবেদনশীল। আর এই কোষের একটি স্পর্শকাতর অংশকে বলা হয়। কোষ দেহ বা সেল বডি। জিবিএসে কোষদেহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পেশি দুর্বল বা পরবর্তী সময়ে প্যারালাইসিস হয়ে থাকে। এ রোগটি স্নায়ুকোষের যে মাওলিন স্মিথ বা আবরণী থাকে তা উঠে যায়। এ কারণে ইমপালস বা স্নায়ুবিক তাড়না বা উদ্দীপনা বহনে অনেক বেশি সময় লাগে।

কারণ

জিবিএসের প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে এটি সাধারণত নানা সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। যেমনÑ শ্বাসতন্ত্র বা ফুসফুসের ইনফেকশনের কারণে অথবা পেটের কোনো ইনফেকশনের কারণে এমনটি হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি লাখের মধ্যে আটজনের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এটা যে কোনো বয়সে হতে পারে। তবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের এ রোগটি বেশি হয়ে থাকে।

সাধারণ লক্ষণগুলো

এ রোগে পেশিজনিত দুর্বলতা ও প্যারালাইসিস সাধারণত পা থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে ওপরের দিকে হতে পারে। এজন্য প্যারালাইসিস বুকের পেশিকে পর্যন্ত আক্রান্ত করতে পারে। এতে শ্বাস-প্রশ্বাসের কষ্ট দেখা দিতে পারে এবং ডায়াফ্রাম আক্রান্ত হলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

সবচেয়ে বেশি প্রচলিত উপসর্গ হলো, পেশির দুর্বলতা বা প্যারালাইসিস অথবা পেশির অসমন্বিত নড়াচড়া।

প্যারালাইসিস হাতেও হতে পারে এবং তা পরে নিচের দিকে ছড়াতে পারে।

প্যারালাইসিস হাতে ও পায়ে একসঙ্গে হতে পারে।

এটি শুধু ক্রেনিয়াল নার্ভে আরম্ভ হতে পারে।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুই দিকের মুখের মাংসপেশিতে প্যারালাইসিস হতে পারে।

স্পর্শজনিত পরিবর্তন যেমনÑ ঝিনঝিন করা অথবা স্পর্শেও অনুভূতি কমে যাওয়া, ধরলে ব্যথা লাগা ইত্যাদি।

ফিজিওথেরাপি চিকিসৎসা

প্রথমে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর হাত-পা অস্থিসন্ধিগুলো শক্ত বা বিকলাঙ্গ অথবা দুর্বল মাংসপেশিগুলোকে রক্ষা করার জন্য পা ও হাতের বিভিন্ন ধরনের পরোক্ষ ব্যায়াম প্রদান এবং বিভিন্ন ধরনের পজিশন মেইনটেন করে থাকেন। বিকলাঙ্গ বা মাংসপেশিকে রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন ধরনের স্পিলিন্ট ব্যবহার করা হয়। রোগীর ব্যথা উপশমের জন্য হটপ্যাক বা কোল্ডপ্যাক ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এ ছাড়া মাংসপেশির দুর্বলতা, অবশতা ইত্যাদির জন্য বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক্যাল স্টিমুলাস ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এর পরবর্তী সময়ে রোগীর উন্নতি হলে অ্যাকটিভ এক্সারসাইজ করানোর জন্য প্রলুব্ধিত করতে হয়।

সাবধানতা

রোগীকে ব্যায়ামের মাধমে ক্লান্ত করা যাবে না।

প্রয়োজনে মাঝে মাঝে রোগীকে অবশ্যই বিশ্রাম দিতে হবে।

অক্সফোর্ড স্কেলে পায়ের মাংসপেশির ক্ষমতা তিন বা তিনের বেশি না হলে কখনোই রোগীকে হাঁটানো যাবে না।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে এটা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে অন্যের মাঝে ছড়াতে পারে, তাই এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

"