কোমরে ব্যথা

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

প্রফেসর আলতাফ হোসেন সরকার

বি-বাড়িয়ার মো. কামরুল হাসান কাজ করতেন সুদূর স্বপ্নরাজ্য সৌদি আরবে। কর্মক্ষেত্রে ভারী জিনিস ওঠাতে গিয়ে কোমরের বাঁ পাশে ব্যথা পান তিন থেকে চার বছর আগে। এ ব্যথা কোমরেই থাকে। দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজকর্মে ব্যথা বেড়ে যায়। যেমনÑ অনেকক্ষণ বসে থাকলে কোমরে ব্যথা বেড়ে যায়, সামনে ঝুঁকে কাজ করলে অল্প সময়ের মধ্যেই কোমরে যন্ত্রণা শুরু হয়, সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠার আগেই কোমর ব্যথায় ঘুম ভেঙে যায়, এখনো কোনো জিনিস ওঠাতে গেলে কোমরে ব্যথা হয়; এমনকি ছোট বাচ্চা কোলে নিতেও কোমরে ব্যথা পান। হাঁচি-কাশি দিলে কোমরে ব্যথা হয়। বাঁ পা সোজা করে ওঠালে কোমরে ব্যথা হয়, চিত হয়ে শুয়ে দুই হাঁটু টানলেও কোমরে ব্যথা হয়। সোয়াস মাসেল টেস্ট পজেটিভ। উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা ওঠালেও ব্যথা হয়। তার লাম্বার স্পাইনের এল ৩, ৪, ৫-এস১ লেভেলে চাপ দিলে ব্যথা পান অর্থাৎ টেন্ডার আছে। কোমর ও পেটের মাংস দুর্বল। গেল বছর কোমরে দুটি স্টেরয়েড ইনজেকশন নিয়েছেন।

এমআরআইতে দেখা গেছে, এল৩-৪ লেভেলে ডিস্ক ভালজিন। এক্স-রেতে দেখা যায়, লাম্বার লোডোরটিক কার্ভ কমে সোজা হয়ে গেছে এবং বাম ইলিয়াম বোন আপস্লিপ হয়েছে। এ রোগীর মাসেল ইমব্যালেন্স আছে। চিকিৎসা শুরুর আগে সঠিক অ্যাসেসমেন্ট, রোগ চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। উপরোক্ত অ্যাসেসমেন্ট থেকে আমি মনে করি, এ রোগীর জন্য ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা অনেক উপকার করবে। কামরুল হাসানকে উপুড় করে শুয়ে ব্যাক মাসেলের টেন্ডার পয়েন্ট অনুযায়ী সঠিক ডিফ্রেকশন করতে হবে। তারপর একই ভঙ্গিতে সফট টিস্যু মোবিলাইজেশন করতে হবে। এরপরে আলট্রাসাউন্ড ও ওয়াক্সপ্যাক ব্যবহার করতে হবে। বিভিন্ন ভঙ্গিতে সঠিক এক্সারসাইজের মাধ্যমে ব্যাক ও অ্যাবডোমিনালের শক্তি বাড়াতে হবে।

খাদ্যতালিকায় একটু পরিবর্তন আনতে হবে, যেমনÑ প্রচুর পানি খেতে হবে, দুধ বা দুধজাতীয় খাবার বেশি খেতে হবে। সঙ্গে আদাও খেতে হবে। সেই সঙ্গে প্রতিদিন গড়ে একটানা ৮ ঘণ্টা ঘুমালে এ রোগ থেকে দ্রুত আরোগ্য পাওয়া যায়। সুপ্রিয় পাঠক, আপনারা যারা এ রোগে ভুগছেন তারা ওই চিকিৎসার মাধ্যমে আশা করি দ্রুত আরোগ্য লাভ করবেন।

বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দ্রুত প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকপেইনের জন্য বা কোমর ব্যথার জন্য ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, কোমর ব্যথার কষ্ট থেকে ব্যথামুক্ত থাকার জন্য ওপরে বর্ণিত সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করুন এবং কষ্টমুক্ত থাকুন। দৈনন্দিন জীবনে কাজকর্ম এবং চলাফেরায় সঠিক ভঙ্গি মেনে চলবেন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস উষ্ণ পানি খাবেন।

লেখক :

ব্যাকপেইন বিশেষজ্ঞ

লেজার ফিজিওথেরাপি সেন্টার

পান্থপথ, ঢাকা

 

"