ছেলেদের গোপন রোগ ক্লামাইডিয়া

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০

ডা. দিদারুল আহসান

ক্লামাইডিয়া ছেলেদের ক্ষেত্রে অতি সাধারণ যৌনবাহিত সংক্রমণ। অনেক ছেলেই সচরাচর জানে না তাদের ক্লামাইডিয়া সংক্রমণ রয়েছে। কারণ তাদের কোনো উপসর্গ নাও থাকতে পারে। যা হোক, ক্লামাইডিয়া মহিলা যৌনসঙ্গীকে সংক্রমিত করতে পারে এবং মারাত্মক সংক্রমণ ঘটায় ও জটিলতা সৃষ্টি করে। নবজাতক শিশুও এ জটিলতার শিকার হয়।

কীভাবে সংক্রমণ ঘটে : যে জীবাণুটি সংক্রমণ ঘটায় তার নাম ক্লামাইডিয়া ট্রাকোমাটিস। এ জীবাণুগুলো ব্যাকটেরিয়ার মতো একই ধরনের। সংক্রমণ সাধারণত যৌনসঙ্গমের সময় একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কাছে ছড়ায়। এগুলো অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের জন্য পায়ু এলাকায়ও হতে পারে। পুরুষের ক্ষেত্রে ক্লামাইডিয়া সাধারণত মূত্রনালিকে সংক্রমিত করে। মূত্রনালি হচ্ছে একটি নল, যা পুরুষাঙ্গের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে। মূত্রনালির মধ্য দিয়ে প্র¯্রাব ও যৌন রস (বীর্য) বেরিয়ে যায়। মূত্রনালির সংক্রমণকে বলে ইউরেথ্রাইটিস। ক্লামাইডিয়া এপিডিডাইমিস কিংবা প্রোস্টেট গ্রন্থিকেও সংক্রমিত করতে পারে। এপিডিডাইমিস হলো একটি ছোট গ্রন্থি, যা অন্ডকোষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। এটি শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রোস্টেট গ্রন্থি থাকে পুরুষাঙ্গের গোড়ায়। এটি শুক্রাণুর জন্য পুষ্টি উপাদান তৈরি করে। এপিডিডাইমিসের সংক্রমণকে বলে এপিডাইমাইটিস। প্রোস্টেটের সংক্রমণকে বলে প্রোস্টেটাইটিস। পায়ুপথে সঙ্গম করলে মলদ্বার এবং মলনালিও সংক্রমিত হতে পারে।

উপসর্গ : সচরাচর কোনো উপসর্গ থাকে না। যদি মূত্রনালি সংক্রমিত হয় তাহলে আপনার নিম্নোক্ত উপসর্গ থাকতে পারে।

পুরুষাঙ্গের মাথা থেকে রস নিসৃত হওয়া।

প্র¯্রাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়া করা।

এপিডিডাইমিস সংক্রমিত হলে অন্ডকোষে

ব্যথা করে।

প্রোস্টেট গ্রন্থি সংক্রমিত হলে যেসব উপসর্গ দেখা দেয় তা হচ্ছে : প্রস্রাবর করার সময় কিংবা প্র¯্রাব করার পর ব্যথা বা জ্বালাপোড়া করা অথবা অস্বস্তি বোধ করা

যৌন সঙ্গমের সময় কিংবা যৌন সঙ্গমের পর ব্যথা করা

পিঠের নিম্নভাগে বা কোমরে ব্যথা করা।

কখনো কখনো প্রোস্টেট কিংবা এপিডিডাইমিসের সংক্রমণ হঠাৎ তীব্র হয়। এ ধরনের সংক্রমণের ফলে জ্বর হয় অথবা অসুস্থতার অন্য লক্ষণগুলো দেখা দেয়। এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

পায়ুপথ সংক্রমিত হলে যেসব উপসর্গ দেখা দেয় তা হলোÑ

পায়ুপথের চার পাশে জ্বালাপোড়া করা।

পায়খানা করার সময় ব্যথা করা।

রোগ নির্ণয় করবেন কীভাবে : রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রথমেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। সংক্রমণ নির্ণয়ের জন্য মূত্রনালির মুখের নিঃসরণ পরীক্ষা করা হয়। এক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গের মাথায় মূত্রনালির মুখে একটা সরু সোয়াব ঢোকানো হয়। ক্লামাইডিয়ার জন্য আপনাকে একটি প্রস্রাবের পরীক্ষাও করানো হতে পারে। যদি আপনার পায়ুপথে উপসর্গ থাকে তাহলে আপনার পায়ুপথের নিঃসরণ পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা যাবে আপনার সংক্রমণে কী এবং কোন অ্যান্টিবায়োটিক সবচেয়ে ভালো কাজ করবে। তবে সচরাচর এপিডিডাইমিস ও প্রোস্টেট গ্রন্থির সংক্রমণের জন্য দায়ী জীবাণুকে শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।

চিকিৎসা : সাধারণত সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণে সংক্রমণ সেরে যায়। বেশির ভাগ মূত্রনালির সংক্রমণে সাত দিন অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের প্রয়োজন। কখনো কখনো একক মাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে সংক্রমণের চিকিৎসা করা যেতে পারে। প্রোস্টেট গ্রন্থির সংক্রমণের জন্য দুই থেকে চার সপ্তাহ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

লেখক :

চর্ম ও যৌনব্যাধি বিশেষজ্ঞ

আল-রাজী হাসপাতাল, ঢাকা

 

"