ঝুঁকিমুক্ত বাবা হতে চাইলে

প্রকাশ : ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ডা. মহসীন কবির
ama ami

আগে ধারণা করা হতো বেশি বয়েসে মা হলে সন্তানের শারীরিক নানা সমস্যা হতে পারে কিন্তু গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে শুধু মা নয় বরং বেশি বয়েছে বাবা হলেও এর প্রভাব সন্তানের ওপর বেশি পড়ে। বিয়ের পর যারা সন্তান নিতে চাচ্ছেন তাদের জেনে রাখা ভালো, বেশি বয়েসে বাবা হওয়ার অনেক ঝুঁকি রয়েছে। কারণ বাবার বয়স সন্তানের বংশগত জটিলতার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। শিশুদের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, মায়ের চেয়ে বাবার বয়সই প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। অসুস্থ অস্বাভাবিক সন্তান জন্ম হলে বেশির ভাগ সমাজব্যবস্থা মায়েদেরই দোষ দিয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি গবেষণায় দেখা যায়, অটিজম সিজোফ্রেনিয়া কিংবা মানসিক ও শারীরিক বিকলঙ্গতা নিয়ে যেসব শিশু জন্ম নিচ্ছে এর একটি প্রধান কারণ বেশি বয়সে বাবা হওয়া। অর্থাৎ বাবা হিসেবে বেশি বয়সে সন্তান জন্ম দিতে চাইলে আগত শিশুর মানসিক ও শারীরিক সমস্যা ও জটিলতা থাকার সম্ভাবনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা যায়, ২০ বছরের বেশি বয়সের বাবার সন্তানদের ২৫টির মতো জটিলতার সম্ভাবনা দেখা যায়। ৪০ বছরের বাবার সন্তানদের সে সম্ভাবনা থাকে ৬৫টি জটিলতার। অর্থাৎ, বাবার বয়স বাড়ার সাথে সাথে শিশুদের জটিলতার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মোটকথা, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক জটিলতার ৯৭ ভাগ কারণ বেশি বয়সে বাবা হওয়া বা সন্তান জন্ম দেয়া। গবেষণায় আরও দেখা যায়, ১৯৭০ সাল থেকে উন্নত দেশগুলোতে শিল্পবিপ্লব শুরু হয়েছে আর এ শিল্পবিপ্লবের কারণে পুরুষরা বেশি বয়সে বাবা হচ্ছে আর এতে উন্নত বিশ্বে অটিজম ও অন্যান্য মানসিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু জন্মানোর সংখ্যাও অনেক বেড়ে গেছে। তাই বলা যায়, সুস্থ স্বাভাকিক শিশু জন্ম দিতে চাইলে অন্তত প্রথম সন্তানটি সর্বোচ্চ ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ বছরের মধ্যে জন্ম দিন নতুবা বাবা হিসেবে আপনাকে ঝুঁকির মধ্য থেকে একটা অজানা শঙ্কায় থাকতেই হবে। এ কারণে ঝুঁকিমুক্ত বাবা হতে আপনাকে কিন্তু অবশ্যই ভাবতে হবে।

"