শীতের সাধারণ রোগগুলো

প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ

শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ও পানির স্বল্পতায় গায়ের চামড়া শুকিয়ে আসে। মাথায় খুশকি বেড়ে যায়। গলা ও কানে ব্যথা দেখা দেয়। এ সময় একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে এসব রোগ থেকে মুক্তি পাাওয়া যায়।

চামড়া শুকিয়ে আসা : শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ও পানির স্বল্পতায় গায়ের চামড়া শুকিয়ে আসে, গায়ে চুলকানি হয়, অনেক সময় ঠোঁট ফেটে যায়। তাই পর্যাপ্ত পানি পান ও গরম পানি দিয়ে গোসল করার দিকে খেয়াল রাখতে হয়। ঠোঁটে ভ্যাসলিন মাখলে উপকার হয়। প্রত্যহ গায়ে নারিকেল তেল মাখা ভালো।

খুশকি : শীত এলে মাথায় খুশকি বেড়ে যায়। কারণ মাথার তৈলাক্ত চামড়ায় , ম্যালাসিজিয়া নামক এক ছত্রাকের সংক্রমণে খুশকি বাড়ে। আলসেমি বাদ দিয়ে সপ্তাহে দুবার করে শ্যাম্পু করলে খুশকি থাকে না , ও মাথায় চুলকানির সমস্যাও কমে যায়।

গলাব্যথা : গলা ব্যাথা , বিশেষ করে শীতের সকালের একটি সাধারণ সমস্যা। মূলত ভাইরাসের সংক্রমণের ফলেই এটি হয়ে থাকে। তবে ব্যাকটেরিয়ার জন্যও এমনটি হতে পারে। গলা ব্যাথা হলে গরম লবণ পানির গড়গড়া একটি ভালো ব্যবস্থা। তাছাড়া ধূমপান না করা , গলায় ঠা-া না লাগানো, রাতে সামান্য উঁচু হয়ে শোয়া ও নাক বন্ধ থাকলে তার ব্যবস্থা করা উক্ত সমস্যা প্রতিরোধে ফলদায়ক। গরম আদার চায়ের সাথে লেবুর রস মিশিয়ে খেলেও উপকার পাওয়া যায়। প্রয়োজনে এন্টিবায়োটিকের দরকার হতে পারে।

ব্রংকিউলাইটিস : শীতের আগমনে সাধারণত ৩ থেকে ৬ মাস বয়সের শিশুদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের ব্রংকিউলাইটিস হয়ে থাকে। এটি ছোট শিশুদের একটি হাঁপানি জাতীয় রোগ। এক বছর বয়সের মধ্যে, এ রোগের জন্য সবচেয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়। নাকে স্যালাইনের ফোটা ও নেবুলাইজেসনের সাহায্যে এর চিকিৎসা হয়। ঠা-া না লাগানো, পর্যাপ্ত মায়ের দুধ পাওয়া, হাত ধোওয়াসহ অন্যান্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা গ্রহণ করে এ সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়।

কানব্যথা : কানব্যথা শীতের একটি সাধারণ সমস্যা। ঠা-া আবহাওয়ায় কানের স্নায়ুগুলো আক্রান্ত হয়ে কান ব্যথা হয়। কানে জীবাণু সংক্রমণের ফলেও এ সমস্যা হতে পারে। ইয়ার প্লাগ, ইয়ার মাফ বা অন্য কোনোভাবে কান ঢেকে রেখে, শীতে কান ব্যথা থেকে রেহাই পাওয়া যায়। কানে হালকা গরম অলিভ অয়েল, সরিষার তেল বা ভিনেগার ড্রপ দিলে উপকার হয়। অল্পতেই অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহারে ঘন ঘন কান ব্যথা হতে পারে। কানে জীবাণু সংক্রমণ হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করা দরকার।

সর্দিজ্বর : সর্দিজ্বর শীতের একটি অতি সাধারণ সমস্যা। ভাইরাসের সংক্রমণে ঠা-া লেগে থাকে। এ রোগে সর্দি, কাশি, হাঁচি, জ্বর ও মাথা ব্যথা হয়। প্রয়োজনীয় ওষুধের পাশাপাশি আদার রস ও মধু এ সমস্যায় উপকারী। লেবুর রসও সর্দিতে ভালো কাজ করে। সর্দিজ্বর একটি ছোঁয়াচে রোগ। প্রয়োজনে ঘন ঘন হাত ধোওয়া সর্দিজ্বর বিস্তার রোধ করে।

হাঁপানি : শীতে ঠা-া আবহাওয়ায় হাঁপানির প্রকোপ বাড়ে। তাই রোগীদের শরীর গরম রাখার পাশাপাশি ইনহেলার ও নেবুলাইজেসনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি থাকা দরকার। সাধারণ সর্দি থেকেও হাঁপানি শুরু হয়ে যেতে পারে। তাই হাঁপানি রোগীদের এ সময়ে সতর্ক থাকতে হয়।

জয়েন্ট পেইন : শীত এলে বাত ব্যথায় আক্রান্তদের গিটে বা শরীরের অন্যান্য জায়গায় ব্যথা ও চলাফেরায় অসুবিধা হয়। শীতের কাপড়ের সাথে কানটুপি, মাফলার , গ্লাভস, মোজাসহ শরীরকে গরম রাখতে পারলে ব্যথা কমে। তা ছাড়া হাঁটা, হালকা ব্যায়াম, ছোটদের সাথে খেলাধুলা, লিফটের বদলে সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করা ইত্যাদি ব্যথা কমানোর জন্য সহায়ক। বিভিন্নভাবে শরীরকে সচল রাখতে হয়। গরম পানি দিয়ে গোসল না করলে ব্যথা উপশম হয় না। অনেকের সারা বছরই তা দরকার হয়।

"