অ্যালার্জিজনিত খাদ্যে অ্যাজমা

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস

সাধারণত অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খাওয়ার পর শুধু অ্যাজমা হয় না, তবে অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে অ্যাজমার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খাওয়ায় অন্যান্য প্রতিক্রিয়া যেমন ঠোঁট ফুলে ওঠে, মুখ চুলকায়, নাক দিয়ে পানি পড়ে, চোখ ফুলে ওঠার সঙ্গেও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীর ২ থেকে ৬০ ভাগ মনে করেন তাদের অ্যাজমার জন্য কোনো না কোনো খাদ্য দায়ী। যেসব খাদ্যকে তাদের অ্যাজমার জন্য দায়ী মনে করেন, সেসব খাদ্য তাদের খাওয়ানোর পর দেখা যায়, মাত্র ২ থেকে ৫ ভাগ ক্ষেত্রে তাদের ফুসফুসের ক্ষমতা কমে গেছে বা অ্যাজমা রোগের তীব্রতার পরিমাণ বেড়েছে। শিশুর ৬ থেকে ৮ ভাগ অ্যাজমা এ অ্যালার্জিজনিত খাদ্য থেকে হয়ে থাকে। বড়দের ক্ষেত্রে খুব কমই খাদ্য থেকে হয়ে থাকে। তাই অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীরা প্রায়ই অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খান না, যদিও ওই খাদ্যগুলো খেলে তাদের অ্যাজমা আক্রান্ত হওয়ার কোনো ভয় নেই।

চিকিৎসা : পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অ্যালার্জিক খাবার চিহ্নিত করে তা খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে সর্বোত্তম চিকিৎসা।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়েও চিকিৎসা করা হয়। এদের মধ্যে মুখে খাওয়ার ক্রমোলিন, এন্টিহিস্টামিন, ইপিনেফ্রিন খুব বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। রোগীও রোগ সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যাপারে ধারণা দিতে হবে। যে খাদ্যদ্রব্য থেকে অ্যালার্জি হয়ে থাকে তা বাসার খাবার থেকে সাধারণত পরিহার করা হয়। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় যখন তাকে বাড়ির বাইরে খেতে হয়, যথা কোনো অনুষ্ঠানে বা হোটেলে, তখন সেখানে যারা রান্নার দায়িত্বে ছিলেন তাদের জিজ্ঞেস করতে হবে, এ খাবারগুলোতে কী কী আছে অথবা অ্যালার্জিক খাবারগুলো আছে কিনা, তা জেনে অ্যালার্জিক খাবারগুলো বাদ দিয়ে খেতে হবে। আর বড়দের ইপিনেফ্রিন ইনজেকশন নেওয়ার কৌশল শিখিয়ে দিতে হবে এবং সব সময় তা সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিতে হবে।

লেখক : অধ্যাপক, অ্যালার্জি বিভাগ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা। চেম্বার : দি অ্যালার্জি অ্যান্ড অ্যাজমা সেন্টার, পান্থপথ, ঢাকা

"