খাবার থেকেও অ্যালার্জি

প্রকাশ | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০০:০০

ডা. গোবিন্দ চন্দ্র দাস

নানা রকম খাদ্য, যা আমরা খেয়ে থাকি, আমাদের শরীরে লাগে বা ভেতরে ঢোকে এবং তার বিরুদ্ধে পরিবর্তিত এবং বর্ধিত প্রতিক্রিয়া শরীরে হলে তাকে অ্যালার্জি বলে। গরুর দুধ, গরুর গোশত, ডিম, কলা, বেগুন, চিংড়ি, ইলিশ মাছ তো আমরা সবাই খাই। কেউ কেউ এসব খেয়ে পেটে ব্যথা, হাঁপানি বা সর্দিতে ভোগেন। খাদ্য গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক ইমুনোলোজিক্যাল ছাড়া অন্য প্রতিক্রিয়ায় খাদ্য গ্রহণ করার পর অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

কোন কোন খাদ্য থেকে অ্যালার্জি হয়ে থাকে?

প্রায় সব ধরনের খাদ্য থেকে অ্যালার্জি হয়ে থাকে। বিশেষ করে গরুর দুধ ও গোশত, ডিম, বাদাম, সয়াবিন, ইলিশ, চিংড়ি, পুঁটি, বোয়াল, শৈল মাছ, বেগুন, কুমড়া, কচু ইত্যাদি।

খাদ্যে অ্যালার্জিজনিত লক্ষণগুলো শরীরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে দেখা দেয়। যেমনÑত্বক বা চামড়া চুলকাতে থাকে এবং সঙ্গে সঙ্গে চাকা চাকা হয়ে লাল হয়ে ওঠে।

চোখে চুলকায়, চোখ দিয়ে পানি পড়ে, লাল হয়ে থাকে, ফুলে ওঠে।

ওপরের শ্বাসনালিতে, নাকে ও গলায় চুলকাতে থাকে। গলা ফুলে গেছে বলে মনে হয়, এমনকি কথা বলার সময় অসুবিধা হয়, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ বন্ধ ভাব, অনেক সময় শব্দও থাকে।

নিচের শ্বাসনালিতে শ্বাসকষ্ট, কাশি, বাঁশির মতো আওয়াজ।

পরিপাকতন্ত্রে বমি বমি ভাব, পেটে ক্র্যাম্প বা ব্যথা, ডায়রিয়া দেখা যায়। পুরুষ অঙ্গে চুলকাতে থাকে ও মহিলাদের ইউটেরাসে ব্যথা শুরু হয়।

মাথাব্যথা ও রক্তের চাপও কমে বা বেড়ে যেতে পারে।

কীভাবে এ রোগ নির্ণয় করা যায়?

রোগের ইতিহাস থেকে, যেমন কত সময় ধরে শুরু হয়েছে রোগের লক্ষণ, খাদ্য গ্রহণ ও প্রতিক্রিয়ার মধ্যবর্তী সময় এবং এটপিক ডার্মাটাইটিস, অ্যাজমা, অ্যালার্জিক রাইনাইটিস রোগে ভুগে থাকেন কিনা।

ল্যাবরেটরি পরীক্ষাÑস্কিন প্রিক টেস্ট, স্পেসিফিক আইজিই ইত্যাদি।

অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খাওয়ার পর অ্যাজমা হওয়ার সম্ভাবনা কতটা

সাধারণত অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খাওয়ার পর শুধু অ্যাজমা হয় না, তবে অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে অ্যাজমার উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খাওয়ায় অন্যান্য প্রতিক্রিয়া যেমন ঠোঁট ফুলে ওঠে, মুখ চুলকায়, নাক দিয়ে পানি পড়ে, চোখ ফুলে ওঠার সঙ্গেও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীর জিজ্ঞাসা করলে তাদের ২০-৬০ ভাগ মনে করেন তাদের অ্যাজমার জন্য কোনো না কোনো খাদ্য দায়ী। যেসব খাদ্যকে তাদের অ্যাজমার জন্য দায়ী মনে করেন, সেসব খাদ্য তাদের খাওয়ানোর পর দেখা যায়, মাত্র ২ থেকে ৫ ভাগ ক্ষেত্রে তাদের ফুসফুসের ক্ষমতা কমে গেছে বা অ্যাজমা রোগের তীব্রতার পরিমাণ বেড়েছে। শিশুর ৬ থেকে ৮ ভাগ অ্যাজমা এ অ্যালার্জিজনিত খাদ্য থেকে হয়ে থাকে। বড়দের ক্ষেত্রে খুব কমই খাদ্য থেকে হয়ে থাকে। তাই অ্যাজমা আক্রান্ত রোগীরা প্রায়ই অ্যালার্জিজনিত খাদ্য খান না, যদিও ওই খাদ্যগুলো খেলে তাদের অ্যাজমা আক্রান্ত হওয়ার কোনো ভয় নেই।

চিকিৎসা : পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে অ্যালার্জিক খাবার চিহ্নিত করে তা খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে সর্বোত্তম চিকিৎসা।

তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়েও চিকিৎসা করা হয়। এদের মধ্যে মুখে খাওয়ার ক্রমোলিন, এন্টিহিস্টামিন, ইপিনেফ্রিন খুব বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে। রোগীদেরও রোগ সম্পর্কে সম্যক ধারণা ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যাপারে ধারণা দিতে হবে। যে খাদ্যদ্রব্য থেকে অ্যালার্জি হয়ে থাকে তা বাসার খাবার থেকে সাধারণত পরিহার করা হয়। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয়, যখন তাকে বাড়ির বাইরে খেতে হয় যথা কোনো অনুষ্ঠানে বা হোটেলে, তখন সেখানে যারা রান্নার দায়িত্বে ছিলেন, তাদের জিজ্ঞাসা করতে হবেÑএ খাবারগুলোতে কী কী আছে অথবা অ্যালার্জিক খাবারগুলো আছে কিনা। তা জেনে অ্যালার্জিক খাবারগুলো বাদ দিয়ে খেতে হবে। আর বড়দের ইপিনেফ্রিন ইনজেকশন নেওয়ার কৌশল শিখিয়ে দিতে হবে এবং সব সময় সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিতে হবে।

লেখক : অধ্যাপক, অ্যালার্জি বিভাগ, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা

চেম্বার : দি অ্যালার্জি অ্যান্ড অ্যাজমা সেন্টার

পান্থপথ, ঢাকা

"