মৃগী রোগী মূর্ছা গেলে

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

ডা. নাসির উদ্দিন মাহমুদ

মৃগী রোগীদের একটি বড় সমস্যা, এরা চলতি পথে অথবা কর্মক্ষেত্রে যখন-তখন মূর্ছা যেতে পারেন এবং অনেকে মূর্ছা যান। এ সময় আশপাশের অনেকেই কী করবেন তা ঠিক ভেবে পান না। তাই আসুন জেনে নিই আশপাশে কোনো মৃগী রোগী মূর্ছা গেলে তাৎক্ষণিক আমরা কী করবÑ

A-Assessment : রোগীর অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। যদি তার আশপাশে কোনো শক্ত, ধারালো বস্তু বা ক্ষতিকর কিছু (আগুন, পানি ইত্যাদি) থাকে তবে সেগুলো সরিয়ে রোগীকে নিরাপদ অবস্থায় নিয়ে যেতে হবে। হাত-পা খিঁচুনির সময় পড়ে গিয়ে রোগী যেন আঘাত না পান সেদিকে খেয়াল রাখাতে হবে।

C-Cushion : মৃগী রোগীর মাথার নিচে নরম বালিশ, পেঁচানো গামছা বা ভাঁজ করা কাঁথা রেখে শুইয়ে দিতে হবে। মাথায় যেন কোনোভাবেই চোট না লাগে, এ ব্যাপারে যতœবান হতে হবে।

T-Timing : অজ্ঞান অবস্থায় রোগীর সেবা শুশ্রƒষার পাশাপাশি অবশ্যই সময়ের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদি ৫ থেকে ৭ মিনিটের মধ্যে জ্ঞান না ফিরে, তবে তাকে মেডিকেলে নেওয়া উচিত। রোগী যদি বয়স্ক, গর্ভবতী বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হন তবে জরুরি হাসপাতালে নিতে হবে।

I-Identity : রোগীর সঙ্গে মেডিকেল ব্রেসলেট, আইডি কার্ড বা স্বাস্থ্যবিষয়ক কোনো নোট থাকলে, এ অবস্থায় পুরো করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সম্ভব। ফলে রোগী সামলাতে সুবিধা হয়।

O-Over  : অজ্ঞান হয়ে গেলে রোগীকে খোলামেলা ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে, তার গায়ের কাপড়-চোপড় ঢিলা করে, বাঁ-কাত করে হাঁটু ‘দ’-এর মতো ভাঁজ করে শুইয়ে দিতে হবে। এ অবস্থায় দায়িত্বশীল কেউ তার পাশে থেকে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে তার বুকের ওঠানামা, চামড়ার রং ও হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক কিনা, গায়ে কোনো আঘাতের চিহ্ন বা রক্তক্ষরণ, পায়খানা বা প্রস্রাব হয়েছে কিনা ইত্যাদি নিরীক্ষণ করা উচিত। জ্ঞান ফিরলে রোগী অনেক কিছুই মনে করতে পারেন না এবং তিনি কান্না করতে পারেন। এ সময় তাকে আন্তরিকভাবে সাহস দিতে হবে। জানাতে হবে তিনি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন, এখন ভালো আছেন, আপনজন তার পাশেই আছেন। কোনোভাবেই বিরূপ আলোচনা করা ঠিক হবে না।

N-Never : রোগীর হাত-পায়ের খিঁচুনি বন্ধ করার জন্য তাকে ধরে রাখা যাবে না। তখন রোগীকে খাদ্য, পানীয় বা ওষুধ দেয়া যাবে না। জুতা শোঁকানো যাবে না।

লেখক : দি এমমি ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড,  nasiruddin1544@gmail.com