কোমরের ব্যথায় ফিজিওথেরাপি

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৮, ০০:০০

প্রফেসর আলতাফ হোসেন সরকার

রাফিউজ্জামান, বয়স ২৪ বছর। বাঁ-দিকের কোমর ব্যথায় ভুগছেন চার থেকে পাঁচ মাস ধরে। হাঁটার সময় কোমর থেকে ব্যথা বাঁ-পায়ের হাঁটুর নিচে আসে। বসে থাকলে কোমরের বাঁ-দিকে ব্যথা হয়। ব্যথার জন্য বসে বসে প্রতিদিনের খাবারও খেতে পারেন না।

তার বাঁ-পা সোজা করে মাত্র ২৩ ইঞ্চি ওঠাতে পারে। উপুড় হয়ে শুয়ে মাথা-কাঁধ ওঠানোর ৩টি পরীক্ষায়ই কোমরের বাঁ-পাশ ও গ্লুটিয়াল মাসেলে ব্যথা পায়। কোমরের নিচের দিকে এল৫, এস১ লেভেলে চাপ দিলে ব্যথা পায়।

এমআরআই রিপোর্টে বলা হয়েছে, এক্সট্রুশান এল৫, এস১ লেভেলে অর্থাৎ ডিস্ক বেরিয়ে এসেছে, নার্ভ রুটের ওপর চাপ আছে এল৫, এস১ লেভেলে। এক্স-রেতে দেখা যাচ্ছে, লাম্বার কার্ভ সোজা হয়ে গেছে। ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন কয়েক বছর ধরে।

এ অ্যাসেসমেন্ট অনুযায়ী উপরোক্ত রোগীর জন্য সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা করলে তার রোগের উপশম হবে বলে আশা করি। ফিজিওথেরাপির চিকিৎসার অন্যতম মোডালিটিস-লো-লেভেল লেজার, আলট্রাসাউন্ড, ওয়াক্সপ্যাক, সফট টিস্যু মোবিলাইজেশন, মাল্টিফিডাস, টেনেসভার্সাস অ্যাবডোমিনিসের চিকিৎসা করতে হবে। তারপর কোমরের সুপার ফেসিয়াল গ্রুপের তিনটি মাংসের শক্তি বাড়াতে হবে। যে লিগামেন্ট ও মাসেল অসুস্থ হয়েছে এবং যে মাসেলগুলোর লেন্থ (লম্বা হওয়া) কমে গেছে ও শক্তি কমে গেছে ওই মাসেলগুলোর লেন্থ এবং শক্তি বাড়াতে হবে। বিশেষ চিকিৎসা, যেমন মায়োফেসিয়াল রিলিজ এবং মাসেল অ্যাকটিভেশন করতে হবে। উল্লেখ্য, যে লিগামেন্ট এবং মাসেল অসুস্থ হয়েছে ও যে মাসেলগুলোর লেন্থ (লম্বা হওয়া) কমে গেছে এবং শক্তি কমে গেছে ওই মাসেলগুলোর লেন্থ বাড়ানোর এবং শক্তি বাড়ানোর ফার্মাকোলজিক্যাল বা প্রেসক্রিপশন মেডিকেশন নেই বললেই চলে। সুতরাং ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমেই শুধু লম্বা বাড়ানো যেতে পারে এবং দুর্বল মাংসকে শক্তিশালী এবং ফাংশনাল বা স্বাভাবিক ক্রিয়াকর্ম করার জন্য তৈরি করতে হবে। এ চিকিৎসার জন্য অনেক সময় দিতে হবে।

খাদ্য তালিকায় একটু পরিবর্তন আনতে হবে, যেমন প্রচুর পানি বা জুস, চেরি ফল দিনে ছয়টা, দিনে দুই গ্লাস দুধ খাবারের ১ ঘণ্টা আগে অথবা খাবারের ২ ঘণ্টা পর খাবেন। দুধের বিকল্প হিসেবে তিলবর্তা খেতে পারেন। আদার রস, সালমন মাছ, হেরিং মাছ, সার্ডিন মাছ ও এক চিমটি কালো জিরা কাঁচা পেঁপের সঙ্গে খেতে হবে। নিয়মিত সকালে খালি পেটে এক কাপ উষ্ণ পানি, সেই সঙ্গে নিয়মিত গড়ে একটানা ৮ ঘণ্টা ঘুমালে এ রোগ থেকে আরো দ্রুত আরোগ্য লাভ করা যায়। বিশেষভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে, আমরা যারা উপরোক্ত কষ্টে (কোমর ব্যথায়) ভুগছি তারা যেন শিগগিরই সঠিক চিকিৎসা নিই। কেননা দেরিতে চিকিৎসা নিলে আমাদের কষ্ট আরো বেড়ে যেতে পারে, কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অনেক বেশি সময় লাগতে পারে, আরো অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতা হতেই পারে, জীবনের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং অনেক আর্থিক ক্ষতি হতে পারে।

কোমর ব্যথার চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধ করা অবশ্যই ভালো। সে জন্য সামনে ঝুঁকে ও ডানে-বাঁয়ে বাঁকা হয়ে কাজ করার সময় বেশি সতর্ক থাকবেন এবং পেটের মাংস শক্ত করে কাজ করবেন। হিপ পকেটে মানিব্যাগ ব্যবহার করবেন না। দৈনন্দিন জীবনে কাজকর্ম এবং চলাফেরায় সঠিক ভঙ্গি মেনে চলবেন। একই অবস্থায় বেশিক্ষণ কাজ করবেন না। মাংসের ট্রিগার পয়েন্ট রিলিফ করুন। সঠিক খাদ্যাভ্যাস মেনে চলবেন। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক নিয়মে ঘুমাবেন। ধকল বা কঠিন চাপমুক্ত থাকুন বি-রিলাক্স। কোমরের মাংসের নিয়মিত স্ট্রেসিং ও স্ট্রেন্দেনিং করুন। ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক্সারসাইজ করুন। ধূমপান বর্জন করুন।

লেখক : ব্যাকপেইন বিশেষজ্ঞ, লেজার ফিজিওথেরাপি সেন্টার পান্থপথ

"